রংপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ, হামলাকারীদের শাস্তি দাবি

ঢাকায় আন্দোলনরত ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রংপুরে সড়ক অবরোধ বিক্ষোভ করেছেন জুলাইযোদ্ধাসহ শিক্ষার্থীরা। এই কর্মসূচি থেকে হামলাকারী পুলিশ সদস্যসহ হুকুমদাতাদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় চব্বিশের জুলাইয়ের চেতনাবিরোধী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দেন শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুর নগরীর জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ চত্বর থেকে জুলাইযোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী এবং শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা বিক্ষোভ শেষে রংপুর টাউন হল সংলগ্ন সড়কের সামনে অবস্থান নেন।
এ সময় তারা ‘হাদি তোমায় দেখা যায়, ইনকিলাবের পতাকায়’, ‘কে বলেরে হাদি নাই, হাদি সারা বাংলায়’, ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদি-হাদি’, ‘তুমি কে আমি কে, জাবির-জাবির’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা জানান, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার নিয়ে ইউনুস সরকার টালবাহানা করছে। এখন পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়নি। ঘটনার প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে শুরু বড় একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছে। এ কারণে ইনকিলাব মঞ্চ জাতিসংঘের অধীন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে। এ দাবি যৌক্তিক এবং সাধারণ মানুষের সংহতিপূর্ণ।
জুলাইযোদ্ধারা বলেন, আজ ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের যে অবস্থান কর্মসূচি চলছিল তা ছিল শান্তিপূর্ণ। ডিএমপি কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে পুলিশ তাদের ওপরে হামলা চালিয়েছে। হামলাকারী পুলিশ সদস্যরা ইনকিলাব মঞ্চের জাবের, ঝুমা, আম্মারসহ কয়েকজনকে টার্গেট করে বেধড়ক পিটিয়েছে। শুধু তাই নয়, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। আমার শুনেছি আমাদের ভাইয়েরা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এই হামলায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় আরেকটি জুলাইয়ের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতাকে থেকে টেনে হিঁচড়ে নামানো হবে। এসময় তারা জাতিসংঘের অধীনে হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় ছাত্রশক্তি মহানগরের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগরের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মাদ জামিল হোসেন, জুলাই আন্দোলনের সংগঠক রাজিমুজ্জামান হৃদয়, মোতাওয়াক্কীল বিল্লাহ শাহ ফকিরসহ অন্যরা।
এর আগে, শুক্রবার বিকেলে পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশের হামলায় ইনকিলাব মঞ্চের জাবের ও রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পরে সন্ধ্যায় আবারও রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এসএইচএ