বিজ্ঞাপন

আমরা মা-বোনের নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই : ডা. শফিকুর রহমান

আমরা মা-বোনের নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই : ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজ জন্মস্থান মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নির্বাচনী সমাবেশে বলেছেন, ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছাত্র জনতা ও যুবকদের কাছে আমরা ঋণী। তাদের কারণে আমরা আজ এসেছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুবকদের হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। আপনাদের হাত ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার নবীনচন্দ্র (এনসি) উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের সমাবেশের ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এই বাংলাদেশ চাই না—যেখানে চাঁদাবাজে অতিষ্ঠ দেশ। যেখানে আমার মায়ের ইজ্জত নেই, যেখানে দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ। যেখানে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হয়। এই বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ নয়। এই বাংলাদেশকে তাড়িয়ে দিতে চাই। মনে করতে পারেন তাহলে কেমন বাংলাদেশ হবে? বলতে চাই এই বাংলাদেশই থাকবে, মানচিত্র ঠিক থাকবে শুধু চেহারা পাল্টে দিতে চাই। ১২ তারিখ ৩০০ আসন নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলাদেশ কোন পথ ধরে চলবে। আমরা মা-বোনের নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই, আমরা শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চাই, আমরা কৃষকের বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

জামায়াতের আমির আরও বলেন, এই মৌলভীবাজারের কুলাউড়া আমার জন্মস্থান। আমার এলাকার সব ধর্ম বর্ণের ভাই-বোনদের বুকে আগলে চলতে চাই। আমরা অতীতে হিন্দু, মুসলিম, খাসিয়াসহ সবাই পরস্পরের বন্ধুত্ব আচরণ করেছিলাম, এখনও তা করবো।

“দেশ বিদেশ থেকে অনেকেই বলেছিলেন, আমি যেন কুলাউড়া ও ঢাকা থেকে নির্বাচন করি। আমি কিন্তু হ্যাঁ করিনি, না ও করিনি। সব আসনে ১ জন করে প্রার্থী থাকলেও এই আসনে দুজন প্রার্থী। আমাকে যারা ভালোবাসেন আপনারা অবশ্যই আমার প্রার্থীকে ভালোবাসবেন।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের মতো সিলেট বিমানবন্দরকে আরও আধুনিক করা হবে। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সিলেটের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকেই বহু অবদান রাখছে।

প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে জামায়াতের আমির বলেন, কোনো প্রবাসী যদি প্রবাসে মারা যায় তাহলে যতটাকা খরচ করে প্রবাসে গিয়েছে সেই টাকা উর্পাজন করার আগে মৃত্যুবরণ করলে আমরা সেই টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তার পরিবারের দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র।

চা শ্রমিকদের কথা বলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি যেখানে যাই তাদের আমি ভুলি না। কারণ চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে আমার জন্ম, তাদের আমি ভুলতে পারি না। আমরা তাদের জন্য সুস্বাস্থ্য ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করবো। আমরা চাই না শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে, রাণীর ছেলে রাণী। আমরা চাই শ্রমিক ভাইয়ের সন্তান মেধাবী হলে আগামীর রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হবে। আমরা ওই দেশটাই গড়ে তুলতে চাই। তাদের সন্তানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের দায়িত্ব কেন বাগান মালিককে নিতে হবে। আমরা নির্বাচিত হলে তাদের এই দায়িত্ব নেবো।”

এসএমডব্লিউ