পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করলেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে থানা ঘেরাও এবং সড়ক অবরোধ করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। পুলিশের আশ্বাসের পর প্রায় দুই ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা প্রায় ৭টা পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা বাউফল থানার সামনে অবস্থান নেন এবং বাউফল–ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ, পটুয়াখালীর সহকারী পুলিশ সুপার (বাউফল সার্কেল) আরিফ মোহাম্মদ শাকুর, সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান নির্বাচনকালীন সময় পর্যন্ত কোনো দায়িত্ব পালন করবেন না, নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন সেখানে দায়িত্বে থাকা সহকারী পুলিশ সুপার (বাউফল সার্কেল) আরিফ মোহাম্মদ শাকুর। এ ঘোষণার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ ও অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইসহাক অভিযোগ করে বলেন, টাকা দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। চন্দ্রদ্বীপ এলাকায় জামায়াতের প্রচারণা চলাকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে জামায়াতের প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার বলেন, বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত জেনেই জামায়াত পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। তার দাবি, সংঘর্ষের ঘটনাটি জামায়াতেরই সাজানো।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আজকের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, রোববার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের বৌ বাজার এলাকায় জামায়াতের কয়েকজন সমর্থক প্রচারণার উদ্দেশ্যে গেলে বিএনপি সমর্থকরা তাদের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং গুরুতর আহত একজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় ইতোপূর্বে আসনটিতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদারের পক্ষ থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয়
সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/আরএআর