পাশাপাশি চিরনিদ্রায় শায়িত তিন বন্ধু, এলাকায় শোকের মাতম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত স্কুলছাত্র সাঈদ হোসেন (১৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। গতকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাঈদের মৃত্যু হয়। এর আগে গত শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) একই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তার দুই সহপাঠী বন্ধু রহমত আলী ও সাহাবী হোসেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে জানাজা শেষে সাঈদকে দুই বন্ধুর পাশে দাফন করা হয়। পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তিন বন্ধুকে।
নিহতরা হচ্ছে- দৌলতপুর উপজেলার দৌলতখালী চৌহদ্দিপাড়া গ্রামের হেকমত উল্লাহর ছেলে রহমত আলী (১৪), আমিনুল ইসলামের ছেলে সাহাবী হোসেন (১৪) এবং জিয়ার আলীর ছেলে সাঈদ হোসেন (১৪)। তারা সবাই দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকাল ৮টার দিকে তিন বন্ধু প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে দৌলতখালী মাদরাসা মোড়ে যায়। পড়া শেষে সকাল ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে দৌলতখালী হাজীপাড়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রহমত ও সাহাবীকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সাঈদকে প্রথমে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়।
একই গ্রামের, একই স্কুলের ও একই শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার বিকেলে রহমত ও সাহাবীর এবং আজ সোমবার সকালে সাঈদের জানাজা শেষে দৌলতখালী চৌহদ্দিপাড়া মাঠ গ্রামের কবরস্থানে তিন বন্ধুকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। সন্তানদের হারিয়ে পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম।
নিহত সাঈদের জানাজায় অংশ নেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন। এ সময় তিনি নিহত তিনজনের পরিবারের সাথে দেখা করেন এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
রবিউল আলম ইভান/আরএআর