গণভোট বাস্তবায়ন হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে আওয়ামী লীগ : মঞ্জু

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, আওয়ামী লীগের লোকজন ‘নো ভোট, নো ভোট’ প্রচার চালাচ্ছে। অথচ গণভোটের রায় যদি ‘হ্যাঁ’ হয় এবং এই গণভোট বা জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হয়, তবে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে আওয়ামী লীগই। কারণ, ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগের যে পতন হয়েছিল, সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে যখন গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে আসে, তখনই তারা আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফেনী শহরের খেজুরিয়া এলাকায় নিজের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই সনদ সব দলের কল্যাণের পথ উল্লেখ করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, এই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা ব্যহত হবে। ওই অবস্থায় আজ আমার বিপদ হলে, কাল আপনারও বিপদ হবে। এজন্য জুলাই সনদ সব দলের জন্য একটি কল্যাণের পথ। তাই অনুরোধ করব, অন্ধ আনুগত্য করবেন না। দলমত নির্বিশেষে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দেবেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দূর করতে ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘদিন আমরা কাজ করেছি। বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমরা সু-সম্পর্কের চেইন তৈরি করেছি। এজন্য বহুবার বলেছি আওয়ামী লীগের কল্যাণ ও দায় থেকে মুক্তির জন্য এই গণহত্যা ও গণ-লুটপাটের বিচার হওয়া উচিত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যার মতো আরেকটি গণহত্যার দায় তাদের কাঁধে চেপে বসেছে। দায়মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া কঠিন। আমরা বলি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলগুলোকে এসব থেকে সরে এসে একটি ঐক্যের মধ্যে আসার জন্য।
বক্তব্যে ফেনীর বন্যা, জলাবদ্ধতা, কিশোর গ্যাং, গ্যাস সংকট, যানজট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংকট নিয়ে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নান, সাবেক আমির একেএম সামছুদ্দিন, নায়েবে আমির অধ্যাপক আবু ইউসুফ, প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট আ.ন.ম আব্দুর রহিম, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আজিজুর রহমান রিজভী, জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত, সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, এবি পার্টির জেলা আহ্বায়ক মাস্টার আহসানুল্লাহ, সদস্য সচিব ফজলুল হক, খেলাফত মজলিস নেতা আজিজ উল্লাহ আহমদীসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
তারেক চৌধুরী/এমএন