রাঙামাটির ২০টি দুর্গম কেন্দ্রে আকাশপথে পাঠানো হলো সরঞ্জাম ও জনবল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোর ২০টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ভোটের সরঞ্জাম ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট লোকবল পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে। গত দুই দিন ধরে জেলার চার উপজেলার মোট ১৪টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারে করে সরঞ্জাম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত জনবল পাঠানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ (মঙ্গলবার) বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার বাকি ৬টি ভোটকেন্দ্রেও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট লোকবল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সব হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিশাত শারমিন নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলাগুলোর মধ্যে বাঘাইছড়িতে ৬টি, বরকলে ২টি, জুরাছড়িতে ৭টি এবং বিলাইছড়িতে ৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব ২০টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ হাজার ৫৪৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৯০২ জন এবং নারী ভোটার ১৫ হাজার ৬৪১ জন।
এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৩ হাজার ৪০০ জন সেনাবাহিনী সদস্য, ৩৭ প্লাটুন বিজিবি, ১ হাজার ৫৯৫ জন পুলিশ এবং ২ হাজার ৭৬৯ জন আনসার সদস্যসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ১৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
হেলিসর্টি কেন্দ্রের পাশাপাশি রাঙামাটিতে ৩৬টি ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধা নেই এবং ৬৫টি ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এসব এলাকায় ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল সংগ্রহ ও প্রেরণে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ২১৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭০টিতে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে।
এবার রাঙামাটি ২৯৯ সংসদীয় আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী দীপেন দেওয়ান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক, জাতীয় পার্টির প্রার্থী অশোক তালুকদার, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী জুঁই চাকমা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী এম এ বাশার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা।
রাঙামাটিতে ১০টি উপজেলায় ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে এবারের নির্বাচনে ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
মোস্তফা রাজু/এসএইচএ