বগুড়া-৪ আসনে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৩

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার পারশুন গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, তার ভাই ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রবিউল ইসলাম এবং ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া শহর শাখার সাথী আসাদুল্লাহ হিল গালিব। তারা বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, সোমবার রাতে ভোটকে প্রভাবিত করতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগে জামায়াতের কয়েকজন কর্মীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ঘটনার জের ধরেই পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিএনপি নেতাদের ওপর হামলা চালায় এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করে।
অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিএনপির একটি মিছিল থেকে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং মিথ্যা অভিযোগে কয়েকজনকে আটকে রেখে মারধর করা হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে আব্দুল আজিজের বাড়িতে সন্দেহজনক লোকজনের সমাগম দেখে বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে যান। তাদের অভিযোগ, ওই বাড়িতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বেলালসহ জামায়াতের কিছু কর্মী ভোটারদের মাঝে অর্থ বিতরণ করছিলেন। এ সময় দুইজনকে আটক করে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের উপস্থিতিতেই জামায়াতের প্রায় দুই শতাধিক কর্মী লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। তারা বিএনপি নেতা মাসুদ রানা ও তার ভাইকে মারধর করে এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়ে আটক দুজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় মাসুদ রানার বাড়িসহ তিনটি বাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। হামলায় মাসুদ রানা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর আহত মাসুদ রানা ও তার বাড়িতে হামলার একটি ভিডিও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুয়েল রানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
বগুড়া-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের সময় জামায়াতের দুজন কর্মীকে আটক করা হয়েছিল এবং পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু তার আগেই জামায়াতের লোকজন হামলা চালিয়ে আমাদের নেতাকে গুরুতর আহত করে এবং আটককৃতদের ছিনিয়ে নেয়।
অন্যদিকে আহত শিবির নেতা আসাদুল্লাহ হিল গালিব বলেন, জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারণা শেষে ফেরার পথে বিএনপির একটি মিছিল থেকে কোনো উসকানি ছাড়াই তাকে মারধর করা হয়।
বগুড়া-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের পক্ষ থেকে কোনো হামলা হয়নি। বরং বিএনপির লোকজন তাদের কর্মীদের মারধর ও আটকে রেখে নির্যাতন করেছে। তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আব্দুল মোমিন/আরকে