সাতক্ষীরায় ১২০০ সাংবাদিকের আবেদন, পর্যবেক্ষক কার্ড পেয়েছেন ৭৯১ জন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সংবাদ সংগ্রহের জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বৈধ সাংবাদিক কার্ড প্রদানের নীতিমালা জারি করা হলেও সাতক্ষীরায় তা যথাযথভাবে অনুসরণ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সাংবাদিক কার্ড বিতরণ শুরু হয়। এ সময় কার্ড সংগ্রহ করতে আসা সাংবাদিকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে টাঙানো কার্ডপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পেশাগত সাংবাদিক নন এমন ব্যক্তিরাও সাংবাদিক কার্ড পেয়েছেন। তালিকায় রয়েছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু মুহিত গাজীর নাম। তিনি অনিবন্ধিত ফেসবুকভিত্তিক ‘এ ওয়ান টিভি’র পরিচয়ে কার্ড পেয়েছেন।
এ ছাড়া স্থানীয় ফেসবুক পেজ ‘আপন বাংলা’, অনিবন্ধিত ‘গাঙচিল টিভি’ ও ‘এনএএন টিভি’-এর নামেও বৈধ সাংবাদিক কার্ড ইস্যু করা হয়েছে বলে তালিকায় দেখা গেছে।
জানা গেছে, সাতক্ষীরায় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সংবাদ সংগ্রহের জন্য প্রায় এক হাজার ২০০ সাংবাদিক আবেদন করেন। এর মধ্যে ৭৯১ জনকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সাংবাদিক কার্ড দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাতক্ষীরায় কর্মরত দৈনিক কালবেলা ও স্টার নিউজের প্রতিনিধি গাজী ফারহাদ বলেন, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাংবাদিক কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালা কঠোরভাবে মানা জরুরি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, পেশাগত সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তি ও অনিবন্ধিত ফেসবুকভিত্তিক প্ল্যাটফর্মও কার্ড পাচ্ছে। এতে নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। একই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, সাংবাদিকদের কার্ড দেওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে, তবে আমরা সাতক্ষীরায় লক্ষ্য করেছি তার ব্যতয় ঘটেছে। এ ধরনের কার্ড যাদেরকে দেওয়া হয়েছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে বাতিল করে তাদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার বলেন, আমাদের কাছে একটি চেকলিস্ট রয়েছে। সেখানে অনুমোদিত জাতীয় পত্রিকা, স্থানীয় পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের তালিকা আছে। সেই চেকলিস্ট অনুযায়ী যারা নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়া পূরণ করতে পেরেছেন, শুধু তাদেরই কার্ড দেওয়া হয়েছে। আবেদন ছিল অনেক বেশি, রিজেক্টও হয়েছে অনেক।
তবে মাঠপর্যায়ে তালিকায় থাকা কিছু নাম ও প্রতিষ্ঠানের বৈধতা নিয়ে সাংবাদিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের নীতিমালার আলোকে কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইব্রাহিম খলিল/এমএএস