১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর লোকজন টাকা নিয়ে ভোট কিনতে নেমেছিল : শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শামা ওবায়েদ অভিযোগ করেছেন, এই আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী শাহ আকরাম আলীর সমর্থকরা গতকাল রাত ১২টার পর নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার কিছু ইউনিয়নে টাকা দিয়ে ভোট কিনতে নেমেছিল। তবে তার সমর্থকদের ধাওয়ায় তারা পালিয়ে যায়। আজ রাতেও তারা টাকা নিয়ে ভোট কিনতে নামতে পারে বলে আশঙ্কা শামার।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে নগরকান্দার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন শামা ওবায়েদ।
শামা ওবায়েদ বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকায় নগরকান্দা-সালথায় বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে, নির্বাচন কমিশনও তাদের ভূমিকা পালন করছে। তবে আমাদের কিছু সংশয় আছে। গতকাল রাতে আমাদের নগরকান্দা-সালথার কিছু কিছু জায়গায় জামায়াত সমর্থিত যে জোট আছে, সেই জোটের যে প্রার্থী, সেই প্রার্থীর কিছু লোকজন বিভিন্ন জায়গায় রাত ১২টার পরে চেষ্টা করেছে সাধারণ জনগণকে, ভোটারদেরকে টাকা-পয়সা দিতে। কিছু কিছু ইউনিয়নে আমাদের লোকজন সেটা খেয়াল করে এবং আমরা সেটা প্রশাসনকে জানাই।
তিনি বলেন, আমাদের লোকজন যখন তাদেরকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তারা ওখান থেকে সরে যায়। আমি এটা দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এই কারণে যে, আমি লক্ষ্য করেছি যে পরবর্তীকালে বাংলাদেশের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকাতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, এটা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক কাজ। এটা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং নির্বাচনকে কলুষিত করবে। আমাদের প্রতিপক্ষ যারা আছে, আমরা সকল প্রার্থীকেই সম্মান করি। সকল প্রার্থীর প্রচারণা করার অধিকার আছে এবং যার যার মতো করে প্রচারণার কাজ আমাদের গতকালকেই শেষ হয়েছে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে ভোট কেনার জন্য যে তারা নামছে, এটা আমি অত্যন্ত সিরিয়াসলি এর প্রতিবাদ করছি। এখানে যারা সেনাবাহিনী আছেন, পুলিশ, আনসার যারা সদস্য আছেন, সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি এটা বলতে চাচ্ছি। আমাদের নগরকান্দা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে, বিশেষ করে গতকাল নেমেছিল সালথা উপজেলা ও বাহিরদিয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নে।
তিনি বলেন, আমি শঙ্কা প্রকাশ করছি, আজ রাতেও তারা টাকা নিয়ে নামতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে শামা ওবায়েদ বলেন, গত তিন-চার দিন ধরে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন আমাদের বিভিন্ন নেতাকর্মীর নামে সেনাবাহিনীর কাছে, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করছে। যে অভিযোগের কোনো 'বেসিস' নাই, কোনো প্রমাণ নাই। কোনো প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ দিচ্ছে। সেনাবাহিনী তদন্ত করবে। তদন্ত করতে গিয়ে দেখছে যে, সেই অভিযোগের কোনো প্রমাণ মিলছে না।
এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শাহ আকরাম আলীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সোহরাব হোসেন বলেন, শামা ওবায়েদ যে অভিযোগ করেছেন তা নির্জলা মিথ্যাচার। অবশ্য টাকা বিলি করা অবস্থায় তিনি তার নিজের নেতাকর্মীদেরই হয়তো দেখেছেন। আমাদের লোকদের দেখলে তো ধরে পুলিশে দিত অথবা যথাযথ তথ্যপ্রমাণ দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতো।
তিনি বলেন, প্রশাসনকে আমরা যেসব অভিযোগ দিচ্ছি, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের। তার কোনো ‘বেসিস’ পাওয়া যায় নাই— এটা দেখার দায়িত্ব তো শামা ওবায়েদের না। এটা প্রশাসনই দেখবে।
জহির হোসেন/আরএআর