ফলাফল শিটে অগ্রিম স্বাক্ষর, প্রিজাইডিং অফিসারকে অবরুদ্ধ

ময়মনসিংহের একটি কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল শিটে অগ্রিম স্বাক্ষর দেন এক প্রিজাইডিং অফিসার। তবে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন- শুরুতে ওঠে এমনই অভিযোগ; ফলে এক পর্যায়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন সেই প্রিজাইডিং অফিসার, করা হয় অবরুদ্ধ।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার গোহাইলকান্দী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঘটে এ ঘটনা। জানা গেছে, সেই প্রিজাইডিং অফিসারের নাম হুমায়ুন কবির।
সরেজমিনে দেখা যায়, হুমায়ুন কবির ফলাফল শিটে ধানের শীষের প্রার্থীর স্বাক্ষর নিয়েছেন। ঘটনাটি কিছুক্ষণের মধ্যেই জানাননি হলে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী কেন্দ্রে উপস্থিত হন। এ সময় সেই প্রিজাইডিং অফিসারকে অবরুদ্ধ করা হয় এবং তোপের মুখে পড়েন তিনি।
আগেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা সবার সামনেই অকপটে স্বীকার করেন হুমায়ুন কবির। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে তাকে উদ্ধার করে কেন্দ্রের একটি কক্ষে নিয়ে যায়। এ সময় ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়ার সত্যতা মেলে।
হুমায়ুন কবির বলেন, আগেই কেন্দ্রের কাজ শেষ করতে স্বাক্ষর নিয়েছি। এখন বুঝতে পারছি এটি ঠিক হয়নি। আমি ভুল করেছি।
তবে একই এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মীর শহীদুল ইসলাম বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবেই ফলাফল শিটের আনুমানিক ২২টি পাতায় স্বাক্ষর নিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার। এ জন্য নিশ্চয়ই তিনি মোটা অংকের টাকা পেয়েছেন। আমরা তার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু দাউদ রায়হান। তিনি বলেন, প্রিজাইডিং অফিসার হুমায়ুন কবির জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ জন্য ধানের শীষের প্রার্থীর এজেন্টকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অগ্রিমম স্বাক্ষর নিয়েছেন। আমরা খবর পেয়ে দ্রুত কেন্দ্রে না আসলে ঘটনা ধামাচাপা থাকত। এই প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী বলেন, ফলাফল শিটে (রেজাল্ট শিট) অগ্রিম স্বাক্ষর নেওয়ার সত্যতা মিলেছে। পরে ওই কেন্দ্রে নতুন ফলাফল শিট দেওয়া হয়েছে। তবে প্রিজাইডিং অফিসার হুমায়ুনের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মো. আমান উল্লাহ আকন্দ/ডিএ