রংপুর-৪ ও ৬ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ

রংপুর-৪ ও রংপুর-৬ আসনে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, রংপুর-৪ আসনের হারাগাছে বিএনপি প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ চলাকালে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন বিজয়ী প্রার্থী আখতার হোসেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিএনপি।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা হারাগাছ এলাকায় তার দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, মাইকিং করে এনসিপির কর্মীদের খুঁজে বের করে মারধর করা হচ্ছে। কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাত ১০টার দিকে রংপুর নগরীর জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একই অভিযোগ তোলেন রংপুর-৪ আসনে নির্বাচিত ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী আখতার হোসেন।
তিনি হারাগাছে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ জেলা প্রশাসনকে অবগত করেছেন বলেও জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন, এনসিপির লোকজন নিজেরাই ভাঙচুর করে বিএনপির ওপর দোষ চাপাচ্ছে।
এদিকে, শুক্রবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকার হকবাজারে এমদাদুল হক ভরসার কর্মী সমর্থকরা ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। তারা হারাগাছ–রংপুর সড়ক অবরোধ করে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। রাত ১০টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত বিক্ষোভ চলতে দেখা গেছে। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা সেখানে জড়ো হন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চোহান।
তিনি বলেন, হাজার হাজার লোক হারাগাছ–রংপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের পক্ষে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
একই দাবিতে পীরগাছা উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল পুনর্গণনার জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং'-এর অভিযোগ তুলে ধরে শুক্রবার দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফলাফল পুনর্গণনার আবেদন জমা দেন এমদাদুল হক ভরসা। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সহায়তায় ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
ভরসা জানান, তিনি জনগণের রায়ে বিজয়ী হবেন বলে শতভাগ আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু বেলা ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে প্রতিপক্ষের লোকজন মব সৃষ্টি করে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
ভরসা অভিযোগ করেন, প্রায় ৮ হাজার ৫০০ ভোট বাতিল করা হয়েছে, যা সন্দেহজনক। পুনর্গণনা করলে প্রকৃত ফলাফল বেরিয়ে আসবে বলেও জানান তিনি। সঠিক বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন বিএনপির এই প্রার্থী।
আরেক অভিযোগকারী বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র রায় বলেন, ভোটের দিন প্রতিপক্ষ প্রার্থী মব তৈরি করে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করেছেন। আমিও চাই ভোটের ফলাফল পুনঃগণনা হোক।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান বলেন, ভোট পুনঃগণনার আবেদনটি পেয়েছি। তা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
এদিকে, রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনেও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা। তারা সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাকে অবিলম্বে ফল পুনর্গণনার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৭টি।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এএমকে