এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে চলছিল ককটেল তৈরির কাজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুইজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডির টিম। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী দুলাল বাড়িতে ককটেল তৈরি করছিলেন জানা গেছে।
নিহত দুইজনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তবে আহতরা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাঁটাপাড়া গ্রামের মো. বজলুর রহমান (২০) ও মো. মিনহাজ (২২) এবং একই উপজেলার রাণিহাটি ইউনিয়নের উপরধুমি এলাকার মো. শুভ (২০)। আহত বজলুর রহমান ও মিনহাজ হলো ককটেল তৈরির মূলহোতা দুলালের চাচা ও ভাতিজা।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়ার মৃত মকবুল হোসেনের কালামের বাড়িতে চলছিল ককটেল তৈরির কাজ। এই ককটেল তৈরি করার জন্য এলাকার বাইরে থেকে কারিগর নিয়ে এসেছিল কালামের ছোট ভাই দুলাল (৪০)। দুলাল মূলত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বংশের লোকজনও আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে। এছাড়াও দুলাল সীমান্ত এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যাবসায়ী এবং একাধিক মামলার আসামি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী চরবাগডাঙ্গা এলাকায় দলীয় রাজনীতির চেয়ে ভিলেজ পলিটিক্স এবং গ্রুপিং রাজনীতি বেশি চাঙ্গা। আধিপত্য বিস্তার, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণসহ নানান কারণে চরবাগডাঙ্গায় দলীয় রাজনীতির বাইরে মোটা দাগে দুই ভাগে গ্রুপিং রাজনীতি বিভক্ত। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর আলী এবং অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দেন চরবাগডাঙ্গার বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ রানা টিপু। আর দুলাল মূলত টিপু চেয়ারম্যানের গ্রুপের লোক। দুলালের বিপরীত আওয়ামী লীগের গ্রুপটি বিএনপির প্রার্থী হারুনুর রশিদের নির্বাচনে সক্রিয় কাজ শুরু করলে নিজের আধিপত্য বিস্তার ও মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দুলালও নির্বাচনের কয়েকদিন আগে থেকে জামায়াতের প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুলের পক্ষে তোড়জোড় কাজ শুরু করেন। এরপর নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুল বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন। নির্বাচনে জয়লাভের পর দুলাল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্যই বাইরে থেকে কারিগর নিয়ে এসে ককটেল তৈরি করছিল বলে জানা গেছে।
চরবাগডাঙ্গার চকপাড়ার বাসিন্দা বাবু বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য ককটেলগুলো তৈরি করছিল দুলাল। সে মূলত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে নির্বাচনের কয়েকদিন আগে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে।
চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য রফিক বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করার জন্য বাইরে থেকে কারিগর নিয়ে এসে দুলাল তার ভাইয়ের বাড়িতে বোমা তৈরি করছিল। এই বোমা বিস্ফোরিত হয়। দুলাল মূলত মাদক ব্যবসায়ী এবং সে রাজশাহীতে বাড়ি করে থাকে। মাঝেমধ্যে এলাকায় আসে। নির্বাচনের পর এলাকায় আধিপত্য ও মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্যই সে বোমা বানাচ্ছিল।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ বলেন, নির্বাচনের পর বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাটের উদ্দেশ্যেই বোমাগুলো তৈরি করা হচ্ছিলো। এটার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে দুইজন মারা গেছেন এবং তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া আরও আলামত সংগ্রহের জন্য রাজশাহী থেকে র্যাবের বোম ডিস্পোজাল ইউনিট রওনা দিয়েছে।
আহত, নিহত বা বোমা তৈরির কারিগরদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। বিস্তারিত তদন্ত শেষে বলা যাবে।
আশিক আলী/আরএআর