৩০ বছরের খরা কাটিয়ে সিলেট-৬ আসনে ধানের শীষের প্রত্যাবর্তন

দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক খরা কাটিয়ে অবশেষে সিলেটের গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজারে ফিরেছে ধানের শীষের বিজয়। ৩০ বছর পর সিলেট-৬ আসনে আবারও জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ৮ হাজার ৩৪৮ ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা সেলিম উদ্দিনকে পরাজিত করে পুনরুদ্ধার করেন এই আসনটি। এতেই তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন এলাকার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপি সর্বশেষ জয় পেয়েছিল ১৯৯৬ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে আসনটি ছিল দলটির নাগালের বাইরে। অবশেষে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে সেই বঞ্চনার অধ্যায়ের অবসান ঘটে।
নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী এমরান আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৯১৭ ভোট। পাঁচ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই লড়াইয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিজয় নিশ্চিত করেন। মাত্র ১৫–১৬ দিনের টানা মাঠপর্যায়ের প্রচারণা, ঘরে ঘরে ভোট চাইতে যাওয়া এবং তৃণমূলকে সম্পৃক্ত করার কৌশলই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দেয় বলে মনে করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির অন্তত হাফ ডজন প্রভাবশালী নেতা। তবে চূড়ান্ত তালিকায় দল আস্থা রাখে পরীক্ষিত সংগঠক এমরান আহমদ চৌধুরীর ওপর। মনোনয়ন পাওয়ার পর তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে নানা রাজনৈতিক চড়াই–উতরাই। সব বাধা পেরিয়ে ভোটের দিন তিনি গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজারবাসীর আস্থা অর্জনে সক্ষম হন।
ইতিহাস বলছে, সিলেট-৬ আসনে ছয়বার আওয়ামী লীগ, দুইবার জাতীয় পার্টি এবং দুইবার স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বিএনপির হয়ে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লুৎফুর রহমান এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে শরফ উদ্দিন খসরু বিজয়ী হন। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আবারও এই আসনে দলীয় পতাকা উড়ালেন এমরান আহমদ চৌধুরী।
৫৮ বছর বয়সী বিএনপির এই ত্যাগী নেতা পেশায় আইনজীবী। তিনি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবং ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম আহ্বায়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ২০২২ সালে প্রত্যক্ষ ভোটে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। পাশাপাশি তিনি সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য এবং একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবেও পরিচিত।
জয়ের পর এমরান আহমদ চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে জানান, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের প্রতিটি গ্রামের সমস্যা তার নখদর্পণে। নির্বাচনের আগেই তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন এই দুই উপজেলার উন্নয়নে আলাদা করে কাউকে কিছু বলতে হবে না, নিজ উদ্যোগেই ধারাবাহিকভাবে সব সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন পর দলীয় বিজয়ে নতুন আশায় বুক বাধছেন গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজারের মানুষ। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাষায়, এই জয় শুধু একটি আসনের নয় এটি তিন দশকের রাজনৈতিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে জনগণের রায়।
মাসুদ আহমদ রনি/এএমকে