বগুড়ায় ৭২ ঘণ্টায় তিন খুন, গ্রেপ্তারহীনতায় বাড়ছে উদ্বেগ

টানা তিন দিনের ব্যবধানে বগুড়া জেলায় তিনটি হত্যাকাণ্ড ও একটি হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এসব নৃশংস ঘটনার পরও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারহীনতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গাবতলী উপজেলার সোন্দাবাড়ি পূর্বপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির কাছে পরিবহন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বাড়ি ফিরলেও ওইদিন দোরগোড়ায় পৌঁছানোর আগেই তিনি হত্যার শিকার হন। স্থানীয়দের মতে, তার সঙ্গে দৃশ্যমান কোনো বিরোধ ছিল না।
এর একদিন আগে শহরের মাটিডালী এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছাত্রদল নেতা ফাহিম হাসান ছুরিকাঘাতে নিহত হন। একই সময়ে নিশিন্দারা এলাকায় বাবার গ্যারেজ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর আলিফের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে সহিংসতার আরেক ঘটনায় সেউজগাড়ি এলাকায় চাঁদা দাবির ঘটনায় সুনীল নামের এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তিনি বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার প্রতিবাদে হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের সাতমাথায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বিচারহীনতার প্রবণতা অপরাধকে উৎসাহিত করছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, হত্যাকাণ্ডগুলোর পর থেকেই পুলিশ কাজ করছে। তিনটির মধ্যে ইতোমধ্যে দুটি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদেরকে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা গ্রেপ্তার করতে পারব বলে আশা করছি। যেটি এখনও শনাক্ত হয়নি, সেটি নিয়ে আমরা গুরুত্বের সাথে কাজ করছি। আশা করছি, তিনটি হত্যাকাণ্ডের জড়িতদেরকেই দ্রুত আইনের আওতায় আমরা নিয়ে আসতে সক্ষম হব।
আব্দুল মোমিন/এসএইচএ