এহছানুল হক মিলন পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ায় চাঁদপুরে নেতাকর্মীদের মিষ্টি বিতরণ

তারেক রহমানের নতুন সরকারে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড. আ ন এহছানুল হক মিলন। এর আগে ২০০১ সালে মন্ত্রিসভায় তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তিনি পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় চাঁদপুরে নেতাকর্মীরা আনন্দ-উল্লাস এবং এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পূর্ণ মন্ত্রী হওয়া ড. আ ন এহছানুল হক মিলন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন।
ড. আ ন এহছানুল হক মিলন ১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ওবায়দুল হক একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন এবং মা মাহমুদা হক একজন গৃহিণী। মিলনের স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি।
এহছানুল হক মিলন শের-ই বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গর্ভ. ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজ (বর্তমান সরকারি বিজ্ঞান কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক সম্পন্ন করে ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। তিনি নিউ ইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ব্রুকলিন কলেজ এবং বোরো অফ ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে সহকারী প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে ঔষধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবে কাজ করেন। ২০১৮ সালে তিনি মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণাপত্রের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ভূমিকা।
এহছানুল হক মিলনতার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে যুক্ত হন। ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকাকাল থেকেই তিনি নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছেন। ১৯৯৩ সালে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া তাকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত করেন।
১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসন থেকে মিলন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী, প্রাক্তন মন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এহছানুল হক মিলনকে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন। তখন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশব্যাপী নকল দূরীকরণের মাধ্যমে বেশ আলোচিত ছিল।
২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক ও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা আসার পর মিলনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। পরে ২০১২ সালের ৫ জুন এর মধ্যে অসংখ্য মামলায় জামিন পান এবং পরবর্তীতে বিদেশ ভ্রমণ করেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হন। এছাড়াও চোরাচালান এবং ভাঙচুরের মতো গুরুতর অভিযোগ এনে ৩টি মামলায় অভিযুক্ত হন।
চাঁদপুরের একটি আদালত তাকে কারাগারে পাঠায় এবং পরবর্তী কয়েক মাস ধরে, অনেক মামলায় তাকে জামিন দেওয়া হয়। এসব মামলার মধ্যে ১৯টি খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন। বর্তমানে ১৩ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে এরই মধ্যে ইউএসএ নাগরিকত্ব লাভ করেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি ইউএসএর নাগরিকত্ব ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন।
১৯৯৬ সালে প্রথমবার বিপুল ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য, ২০০১ সালে সংসদ সদস্য ও ২০২৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিশেষ করে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৪ দলীয় জোটের সময়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশ ব্যাপী নকল দূরীকরণের মাধ্যমে বেশ আলোচিত ছিল।
কচুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ মিয়াজী বলেন, ড. আ ন এহছানুল হক মিলনকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে। এদিকে এহছানুল হক মিলন পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় নির্বাচনী এলাকা কচুয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দ উৎসাহ ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।
আনোয়ারুল হক/এসএইচএ