নোয়াখালী জেলা আ.লীগের কার্যালয়ে তালা দিল যুবদল, আটক ৫

নোয়াখালীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ের তালা ভেঙে ব্যানার টানিয়ে কর্মসূচি পালনের ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ওই কার্যালয়ে পুনরায় তালা ঝুলিয়ে দেয় যুবদল।
জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে টাউনহল মোড়ে অবস্থিত আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়টি প্রায় ১৮ মাস ধরে তালাবদ্ধ ছিল। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে একদল নেতাকর্মী কার্যালয়ের তালা ভেঙে ব্যানার টানিয়ে সেখানে জড়ো হন। পরে তারা স্লোগান দিয়ে প্রায় আধাঘণ্টা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ ও ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তৃণমূল নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করে। আটকরা হলেন— বেগমগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর একলাসপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মথুরাপুর গ্রামের আদুর রহিম নাজিমের ছেলে মো. সফিকুল ইসলাম নাজিম (৪৩), সদর উপজেলার ৪ নম্বর কাদির হানিফ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পুছিম মাজিদ গ্রামের মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. কাউছার হামিদ (৩৮), একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফতেহপুর গ্রামের মো. হেদায়েত উল্লাহর ছেলে মো. জিয়াউল রহমান রাজের (৪৮), সদর উপজেলার ১ নম্বর চর মটুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রামান্দি গ্রামের হানদু মিয়ার ছেলে মো. আবু সাঈদ (৫৫) এবং নোয়াখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিনারায়নপুর গ্রামের মৃত নরছন্দ পালের ছেলে বিদ্যুৎ রঞ্জন পাল (ভৃকি) (৪৯)।
নোয়াখালী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আমিন বলেন, সকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার টানিয়ে স্লোগান দিয়ে চলে যায়। পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে। পরে যুবদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে পুনরায় তালা দেন। বর্তমানে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ রয়েছে এবং সেখানে কোনো ব্যানার নেই।
এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হয়। জড়িত পাঁচজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে তিনি জানান।
হাসিব আল আমিন/আরএআর