রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতার করলেন মেসুত ওজিল

জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকা ফুটবলার মেসুত ওজিল কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী তিনি নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছেলে নেকমোদ্দিন বিলাল এরদোয়ানের সফরসঙ্গী হিসেবে তিনি দুপুরে ক্যাম্পে আসেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলমান শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শনের পর বিকেলে মেসুত ওজিল
৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঠে মংডু ও বুথিডংয়ের মধ্যকার প্রীতি ম্যাচ উপভোগ করেন। ম্যাচ চলাকালে একপর্যায়ে মাঠে নেমে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের শিরোপাজয়ী জার্মানি দলের সদস্য ওজিল রোহিঙ্গাদের সাথে ফুটবল খেলেন এবং শেষে তুলে দেন শিরোপা।
সন্ধ্যায় তুর্কি সরকারের সহযোগী সংস্থা টার্কিশ কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সি (টিকা) পরিচালিত কিচেন সেন্টারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রথম রোজার ইফতার সারেন রিয়াল মাদ্রিদ ও আর্সেনালের সাবেক ফুটবলার মেসুত ওজিলসহ তুরস্কের প্রতিনিধি দল।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা থেকে বিশেষ বিমানযোগে নেকমোদ্দিন বিলাল এরদোয়ানের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ও পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান এসময় তাদের স্বাগত জানান। পরে শহরের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ে আরআরআরসি ও অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমানের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন নেকমোদ্দিন এরদোয়ান। তিনি রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গারা নানা সংকটে রয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা নারী–শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যাহত হচ্ছে। তুরস্ক সরকার এই সংকট সমাধানে পাশে থাকবে।
আরআরআরসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ক্যাম্পে বন্ধ রোহিঙ্গা শিশুদের স্কুলগুলো পুনরায় চালু করতে তুরস্ক সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। নেকমোদ্দিন এরদোয়ান বন্ধ শিক্ষাকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, টিকা’র একটি প্রকল্পের অধীনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মুর্তজা মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়নের কাজ চলছে এবং সেই প্রকল্পে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার সহায়তা দিয়েছে তুর্কি সরকার। বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকল্পটি উদ্বোধনে অংশ নেন বিলাল এরদোয়ান ও মেসুত ওজিল।
ইফতিয়াজ নুর নিশান/আরএআর