নির্মাণকাজ শেষ না হতেই সংযোগ সড়ক ধসে দুই গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

যশোরের মণিরামপুরে নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতেই ঝাঁপা বাঁওড়ের নবনির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে। ফলে কোমলপুর ও ঝাঁপা দুই গ্রামের বাসিন্দাদের সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের তত্ত্বাবধানে গত বছরের মে মাসে ঝাঁপা বাঁওড়ের ওপর এই সেতুটি নির্মিত হয়। ১৩ দশমিক ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় এক কোটি ৯২ লাখ আট হাজার ২১১ টাকা।
সেতুর দুই পাশে ৫২৩ মিটার হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) রাস্তার জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে সেতুর উত্তর পাড়ে কোমলপুর অংশের প্রায় ১০০ মিটার রাস্তা ধসে দেবে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকির অভাব এবং ঠিকাদারের দায়সারা কাজের কারণেই বৃষ্টি ছাড়াই রাস্তাটি ধসে গেছে।
আগের জরাজীর্ণ সেতু ভেঙে নতুনটি অনেক উঁচু করে নির্মাণ করা হয়। ফলে সংযোগ সড়ক মেলাতে প্রচুর মাটি ভরাট করা হয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, মাটি থিতু হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে ইটের সলিং বিছিয়ে চলাচলের জন্য রাস্তাটি খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ।
কোমলপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খালেদুর রহমান টিটু বলেন, মাটি বসার সুযোগ না দিয়ে সলিং করায় এই ধস নেমেছে। মাটির বদলে বালু ব্যবহার করলে হয়তো এমনটি হতো না।
সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদার নিশিত বসু কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি লোকসান দিয়ে কাজ করেছি। রাস্তা কেন ধসে গেল, তার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।
উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই তারা ধসের খবর পেয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে ধসের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। তবে আগামী শনিবার থেকে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
রেজওয়ান বাপ্পী/আরকে