সেফ হাসপাতালে সফল স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে নতুন যাত্রা

ঠাকুরগাঁওয়ে মানসম্মত ও নিরাপদ প্রসূতি সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। সফিউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের (এসএএফ) অধীনে পরিচালিত সেফ হাসপাতালে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে স্বাভাবিক প্রসব। গত শুক্রবার এই মাইলফলক অর্জনের মধ্য দিয়ে হাসপাতালটির মাতৃকালীন সেবা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দক্ষ চিকিৎসক এবং প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফদের একটি চৌকস দলের নিবিড় তত্ত্বাবধানে প্রসব প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রসব-পরবর্তী পর্যবেক্ষণে মা ও নবজাতক উভয়ই সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ও ছাড়পত্র প্রদানের পর মা ও শিশুকে তাদের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সযোগে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সেফ হাসপাতালের মা ও শিশু ইউনিটটি উৎসর্গ করা হয়েছে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দানশীল ব্যক্তিত্ব মরহুমা তসরিফা খাতুনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। আজীবন আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত এই মহীয়সী নারীর আদর্শকে ধারণ করেই ইউনিটটির সেবা কার্যক্রম সাজানো হয়েছে।
হাসপাতালটির প্রতিষ্ঠাতা ফিরোজ হাসান এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আমরা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলাম একটি নিরাপদ, সহজলভ্য এবং সম্মানজনক মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার। আজকের এই সফল স্বাভাবিক প্রসব আমাদের সেই অঙ্গীকারেরই প্রথম বাস্তব প্রতিফলন। আমার মা তসরিফা খাতুনের নামে এই ইউনিটটি উৎসর্গ করা হয়েছে, তাই এই অর্জন আমাদের পরিবারের জন্য যেমন আবেগঘন, তেমনি ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য এক বড় ভরসার জায়গা।
তিনি আরও যোগ করেন, মায়ের মমতা ও সেবার যে সহমর্মিতা তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, তা-ই আমাদের হাসপাতালের প্রতিটি স্বাস্থ্যকর্মীর মূল চালিকাশক্তি।
ঠাকুরগাঁওয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য এই হাসপাতালটি বড় আশীর্বাদ হয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধুমাত্র প্রসব সেবাতেই তারা সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। খুব দ্রুতই এখানে ধাপে ধাপে চালু করা হবে, জরুরি প্রসূতি সেবা, উন্নত নবজাতক পরিচর্যা ইউনিট ও কমিউনিটি-ভিত্তিক মাতৃস্বাস্থ্য সচেতনতা ও কাউন্সেলিং।
স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, অনেক সময় উন্নত সেবার অভাবে প্রসূতিদের দূরের শহরে নিয়ে যেতে হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। বাড়ির কাছেই এমন আধুনিক ও মানসম্মত সেবা পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বিশেষ করে স্বাভাবিক প্রসবের ওপর গুরুত্বারোপ করায় সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতা কমবে বলেও আশা করছেন সচেতন মহল।
নিরাপদ মাতৃত্বের এই নতুন অধ্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের স্বাস্থ্যখাতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন জেলা স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এমএএস