শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে হাদি হত্যার বিচার চাইলেন বোন মাসুমা

মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঝালকাঠির নলছিটিতে পদযাত্রা, শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির বোন মাসুমা হাদি এ কর্মসূচিতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবি করেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে মাসুমা হাদির নেতৃত্বে তরুণ তরুনীরা জড়ো হতে থাকেন। পরে সেখান থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে শহরের বাসস্ট্যান্ড হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় পতাকা, প্ল্যাকার্ড ও ওসমান হাদির ছবি হাতে নিয়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গান গেয়ে এগিয়ে যান।
শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
এ সময় বক্তব্যে মাসুমা হাদি বলেন, একুশ আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করতে। আমার ভাই শরীফ ওসমান হাদি সবসময় ইনসাফের কথা বলেছে। সে বিশ্বাস করত, ন্যায়বিচার ছাড়া রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। আজ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা একই সঙ্গে আমার ভাইয়ের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করছি।
তিনি আরও বলেন, আমার ভাই ক্ষমতার রাজনীতি করতে চাননি। তিনি চেয়েছিলেন ন্যায়ের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সংস্কার, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত হোক। সেই আদর্শ থেকেই তিনি আন্দোলনে ছিলেন। আমরা চাই, তার হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক। ভাষা আন্দোলনের চেতনা মানে কেবল ফুল দেওয়া নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান।
উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান বিন হাদি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় জাতীয় অঙ্গনে পরিচিতি পান। শিক্ষা ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিতে তরুণদের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পরে ইনকিলাব মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করে মুখপাত্র ও সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৫ সালে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা শুরু করেন। ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর ও পুরাতন পল্টন এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগের সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি তাকে শেষ বিদায় জানায়।
শাহীন আলম/আরকে