শরীয়তপুরে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি- নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে কাজ করায় এ হামলা চালানো হচ্ছে। অতি দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি সংগঠনটির নেতাদের।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা শহরের চৌরাঙ্গী এলাকায় জামায়াতের জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির কেএম মকবুল হোসেন জানান, নির্বাচনের শুরু থেকেই জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীরা সহিংস আচরণ শুরু করেছে। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী শফিকুর রহমান কিরণ জয়লাভ করার পর জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে একসঙ্গে এলাকার উন্নয়ন করবেন এবং তার নেতাকর্মীরা জামায়াতের কারও ওপর সহিংসমূলক কাজ করবেন না বলে আশ্বস্ত করেন। তবে তার নেতাকর্মীরা সেসব মানছে না। অভিযোগ, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে আরশীনগর এলাকায় প্রথমে জামায়াতের কর্মী ইব্রাহিম খলিল ও পরবর্তীতে মানিক বালার ওপর হামলা চালায় স্থানীয় যুবদল নেতা আফজাল বালা ও তার লোকজন। এ ঘটনা পুলিশকে জানানো হলেও তারা বিষয়টি নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ জামায়াতের।
ভুক্তভোগী জামায়াতের কর্মী মানিক বালা অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে আমি জামায়াতের পক্ষে কাজ করেছিলাম। নির্বাচনে আমার প্রার্থী হেরে যায়। গত বৃহস্পতিবার আমি আমার অফিসে বসা ছিলাম তখন স্থানীয় যুবদল নেতা আফজাল বালা ও তার লোকজন আমার অফিসে হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা আমাকে মারধর করে অফিসে আটকে রেখে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেয়। আমি বিষয়টি প্রশাসনকে জানালেও তারা তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো আমাকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছে।
জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির কেএম মকবুল হোসেন বলেন, আমরা সব সময় চেয়েছি সবাই সহাবস্থান বজায় রেখে চলুক। কিন্তু সরকার দলীয় লোকজন সেসব মানছে না। তারা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা চাই প্রশাসন যেন একটা ব্যবস্থা নেয়।
বিষয়টি নিয়ে সখিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা মৌখিকভাবে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। তবে ভুক্তভোগী থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি বলে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে এমন অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে কখনোই কাউকে ভয়ভীতি দেখানো হয়নি। বরং আমরা তাদের বলেছি, যেহেতু নির্বাচন শেষ তাই নিজেদের মধ্যে ঝামেলা না বাঁধিয়ে সমঝোতা করে নিতে।
নয়ন দাস/আরএআর