হাতকড়া পরে মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়া সেই দুই ভাই এবার বাবা হারালেন

আড়াই মাস ধরে কারাগারে বন্দী কক্সবাজারের রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের আপন দুই ভাই ফরিদুল আলম (৪৩) ও মোহাম্মদ ইসমাইল (৩৮)।
মায়ের জানাজা পড়ার দুই দিনের ব্যবধানে এবার তাদের বাবা নুর আহমদও (৯০) মারা গেছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এর আগে বার্ধক্যজনিত কারণে গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাদের মা মোস্তফা বেগমের (৮০) মৃত্যু হয়। মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি মেলে। সেদিন দুপুরে পুলিশি পাহারায় মাকে শেষবিদায় জানান দুই ভাই, তারা মায়ের জানাজা ও দাফনে হাতকড়া পরেই অংশ নেন। এর পর ফের কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় 'প্যারোলে মুক্তি/ রামুতে হাতে হাতকড়া পরে মায়ের জানাজায় দুই ভাই' শিরোনামে ঢাকা পোস্টে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে নূর আহমদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক একই মাঠে গত শনিবার তাদের মায়ের জানাজায় বাবার জন্য দোয়া চেয়েছিলেন কারাবন্দী ছেলেরা।
জানা গেছে, ফরিদুল ও ইসমাইল দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে রামু থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, প্রথমে খুঁনিয়াপালং ইউনিয়নের একটি মামলায় ফরিদুল ও ইসমাইলকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। সেই মামলায় জামিন হওয়ার পর দক্ষিণ মিঠাছড়ির একটি মামলায় ফের আটক দেখানো হয়।
ইসমাইলের স্ত্রী কুলছুমা বেগম বলেন, আমার স্বামী নির্দোষ। সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তাদেরকে অহেতুক মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানো হচ্ছে। মা ও বাবা দুজনই মারা গেলেন। অথচ সন্তান হিসাবে শেষ সেবাটুকু করতে পারলেন না।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, গত শনিবার তারা প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন, পরে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে রামু থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। প্যারোলের আবেদন করলে মঙ্গলবারও তারা মুক্তি পেতে পারেন বলে জানান তিনি।
ইফতিয়াজ নুর নিশান/এসএইচএ