সেচ প্রকল্প দখল: পানির অভাবে ঝুঁকিতে ৫০ একর ইরি আবাদ

ভোলার লালমোহন উপজেলায় বিএডিসির লাইসেন্সধারী মো. ইউসুফের একটি সেচ প্রকল্প (স্ক্রিম) জোরপূর্বক দখল করে পানি সেচ বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী নাগর মাতুব্বর ও তার দুই ছেলে মো. জোবায়ের ও মো. মাসুমের বিরুদ্ধে। এতে গত ১০ দিন ধরে পানি না পেয়ে প্রায় ৫০ একর জমির অর্ধশতাধিক কৃষকের ইরি ধানের আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের লেজছকিনা গ্রামের একতা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ইউসুফ দাবি করেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) থেকে লাইসেন্স নিয়ে তিনি নিজ জমিতে সেচ প্রকল্প স্থাপন করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের জমিতে পানি সরবরাহ করে আসছিলেন। ঘটনার রাতে তাকে মারধর করে সেচ প্রকল্প দখল ও মেশিনঘর তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং প্রকল্পটি উদ্ধার করে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে নাগর মাতুব্বর দখলের কথা স্বীকার করে দাবি করেন, ২০০১ সালে ইউসুফের ভাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে সেচ কার্যক্রম শুরু করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তাকে বাদ দেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে সালিশও হয়। সমাধান না হওয়ায় নির্বাচনের দিন শেষে তিনি প্রকল্পটি নিজের দখলে নেন বলে জানান।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধারদেনা করে ইরি ধানের চারা রোপণ ও সার-কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন তারা। কিন্তু পানি না থাকায় চারা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত সেচ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সেচ প্রকল্প দখলের সত্যতা মিলেছে। অভিযোগ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগের প্রয়োজন হলে পুলিশ সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।
বরিশাল বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী (সেচ) ও ভোলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এসএম আতাই রাব্বি বলেন, উপজেলা সেচ প্রকল্প কমিটির সভাপতির সঙ্গে কথা বলে দুই পক্ষকে নিয়ে বসে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কিছু কৃষক বিকল্প উপায়ে জমিতে পানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। দ্রুত সমস্যার সমাধান চান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
খাইরুল ইসলাম/এসএইচএ