বেতন বন্ধ ৬৬ আউটসোর্সিং কর্মীর, হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

বাগেরহাটের ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে কর্মরত ৬৬ জন আউটসোর্সিং কর্মী আট মাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের অভিযোগ, বেতন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মহিতুর রহমান কর্মীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। এর আগেও বেতন দেওয়ার সময় জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কর্মীরা।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতাল পরিদর্শনে যান বাগেরহাট-২ আসনের (বাগেরহাট সদর ও কচুয়া) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক (রাহাদ)। এ সময় তার কাছে এই অভিযোগ দেন কর্মীরা।
বাগেরহাট হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এখানে ৯৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী কর্মরত। তাদের মধ্যে ৬৬ জন আগের নিয়োগে এবং নতুন নিয়োগে ২৮ জন। তবে আগের ৬৬ জন আউটসোর্সিং কর্মীর ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে বেতন বন্ধ রয়েছে। প্রতিমাসে তাদের বেতন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। গত ৮ মাস ধরে বেতন পাচ্ছে না। এতে পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে তাদের। কর্মীদের অভিযোগ, হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মহিতুর রহমান ঠিকাদারদের কাছ থেকে বেতন পাইয়ে দেওয়ার নামে বিভিন্ন সময়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা নেয়। কিন্তু তাদের বেতন না দিয়ে তালবাহান করতে থাকে। কখনও বেতনের টাকার কথা জানতে চাইলে চাকরি থেকে অব্যাহতি ও নানা হুমকি-ধামকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা। এ ছাড়া, এর আগেও বেতন দেওয়ার সময়ে জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা ঘুষ নেয়।
আউটসোর্সিং কর্মী আকলিমা বেগম বলেন, আট মাস ধরে বেতন নেই। বাসা ভাড়া, বাজার—সবকিছু বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। বেতনের কথা বললেই ঘুরানো হয়।
আরেক কর্মী বর্না বলেন, আমরা গরিব মানুষ। কাজ করে টাকা না পেলে চলবো কীভাবে? আগে বেতন দিলে ৫০০-১০০০ টাকা করে কেটে নেওয়া হতো।
আউটসোর্সিং কর্মীদের সাধারণ সম্পাদক আলামিন বলেন, দ্রুত বেতন ছাড় করিয়ে আনার জন্য আমাদের কাছ থেকে প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মহিতুর রহমান বিভিন্ন সময়ে দেড় লাখ টাকা নেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। খুব খারাপ অবস্থায় দিন পার করছি। ৬৬ জন কর্মীর দ্রুত বেতনের দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
দ্রুত বেতন পরিশোধ ও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মীরা। তাদের ভাষায়, কাজ করে বেতন না পেলে আর কতদিন চলা যায়?
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মহিতুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। নিয়ম অনুযায়ীই সব কাজ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, আউটসোর্সিং কর্মীদের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। যদি কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেখ আবু তালেব/এএমকে