দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে তদবিরে ব্যস্ত এডিসি সুমন

রংপুরের পীরগাছার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) নাজমুল হক সুমনের বিরুদ্ধে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎসহ একাধিক সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্তে জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিশেষ টিম গঠন করে মাঠে নেমেছে।
স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই এসব অভিযোগ ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক যোগাযোগ ও প্রভাব ব্যবহার করে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তদন্ত প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে নানামুখী তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির মদদপুষ্ট ইউএনও সুমনের বিরুদ্ধে এর আগে একাধিক সংস্থা প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পেলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন
আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের শল্লার বিল এলাকায় ৪৩০টি ঘর নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে প্রায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, গত বছরের জুন মাসে ‘পীরগাছায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুর্নীতি, ইউএনওর ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ’ বিষয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এর পরই দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তর বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৩ জুলাই দুদক রংপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল পীরগাছার শল্লার বিল আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন ও অভিযান পরিচালনা করে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত সাবেক ইউএনও নাজমুল হক সুমন প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে তদন্ত কার্যক্রম প্রভাবিত ও স্থগিত রাখতে তদবির চালিয়ে আসছেন। এর আগে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও জেলা প্রশাসন পৃথকভাবে অভিযোগ তদন্ত করলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুজিব শতবর্ষের উপহার হিসেবে পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের শল্লার বিল এলাকায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য ৪৩০টি ঘর নির্মাণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকেই তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হক সুমনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের দাবি, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অর্থাৎ গত ৫ আগস্টের পরেও প্রভাব খাটিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ দায়সারাভাবে সম্পন্ন করা হয়। এ ক্ষেত্রে অন্নদানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান সংগ্রামের সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা ছাড়াই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হয়। পুনর্বাসিতদের জন্য কমিউনিটি সেন্টার, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ-মন্দির, কবরস্থান, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মক্তব, খেলার মাঠ কিংবা অভ্যন্তরীণ সড়কের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে ৪৩০টি ঘর নির্মাণের জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে ১১০টি ঘর নির্মাণের পর ২০২৪ সালের শেষদিকে বাকি ৩২০টি ঘরের কাজ শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের নির্মাণকাজের মাধ্যমে প্রতিটি ঘর থেকে প্রায় এক লাখ টাকা করে মোট প্রায় চার কোটি টাকার অনিয়ম করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় গভীর খননের মাধ্যমে অতিরিক্ত মাটি কেটে সংরক্ষণ করে বাইরে বিক্রি করা হয়, যার মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
নয়-ছয় কাজে ভাঙন ঝুঁকিতে প্রকল্প এলাকা
আশ্রয়ণ প্রকল্পটি বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। প্রকল্প এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো নানা দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। ইতোমধ্যে তাসনিম ও কহিনুর বেগমসহ চারজনের মৃত্যু হলেও প্রকল্প এলাকায় কবরস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের বাইরে দাফন করতে হয়েছে।
নির্ধারিত ৪০০ বর্গফুট আয়তনের দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘরের মান বজায় রাখা হয়নি। তীব্র পানীয়জল সংকটের কারণে ১০টি পরিবারকে একটি নলকূপের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এছাড়া ঘর বরাদ্দের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
কাবিখা প্রকল্পে ড্রেজার ব্যবহার, বিক্রি সরকারি মাটি
আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে প্রকল্প এলাকা ৫ থেকে ৬ ফুট উঁচু করার জন্য কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ৫৬৬ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাবিখা প্রকল্পে শ্রমিক দিয়ে মাটি ভরাটের নিয়ম থাকলেও করা হয়েছে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে। তবে দেড় থেকে তিন ফুট উঁচু করা হয়েছে। যা বর্ষা মৌসুমে পানিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, কাবিখা প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনোভাবেই ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করা যাবে না। এর পরেও তারা আশ্রয়ণ প্রকল্পকে ঝুঁকিতে ফেলে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করেছেন। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন ইউএনওসহ সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া প্রকল্পস্থলে ড্রেজার মেশিন দিয়ে গভীর খনন করে অতিরিক্ত মাটি কেটে জমিয়ে রাখা হয়। পরে প্রায় চার কোটি টাকার মাটি বাইরে বিক্রি করেন ইউএনও নাজমুল হক সুমন। এতে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙন কাছাকাছি চলে এসেছে।

ঘর বরাদ্দে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ
ভূমিহীনদের বিনামূল্যে ঘর প্রদানের সরকারি উদ্যোগেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, ঘর বরাদ্দ পেতে ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ দিতে হয়েছে। বিশেষ টোকেন ব্যবস্থার মাধ্যমে তালিকা চূড়ান্ত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রকৃত দরিদ্র অনেক পরিবার বাদ পড়ে গেলেও অর্থ প্রদানকারীরা অগ্রাধিকার পেয়েছেন। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় এক কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায়ের অভিযোগ রয়েছে সাবেক ইউএনওর বিরুদ্ধে।
টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পে কাগুজে কাজ
গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে টিআর (টেস্ট রিলিফ), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পের কাজ না করেই বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে সাবেক ইউএনও নাজমুল হক সুমন ও পিআইও আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে প্রকল্প প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব না থাকলেও ‘কাজ শেষ হয়েছে’ দেখিয়ে বিল তোলা হয়েছে। বরাদ্দের টাকার বেশির ভাগ ভাগাভাগি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি স্থানীয় লোকজন এসব প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই জানেন না।
জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িতদের যোগসাজশে একের পর এক বরাদ্দ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পীরগাছা উপজেলা পরিষদের রেজুলেশনে পারুল ইউনিয়নের তিনটি স্থানে গণশৌচাগার নির্মাণের জন্য ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭০০ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়। কিন্তু বাস্তবে এসব শৌচাগারের কোনো অস্তিত্ব নেই!
ইটাকুমারি ইউনিয়ন পরিষদের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য ১ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টাকা ব্যয়ে আইপিএস, মনিটর ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে শুধু ছয়টি ক্যামেরা এসেছে, যা এখনো কার্টুনবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি প্রকল্পের নামে শুধু টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। আমরা কিছুই পাইনি!
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের টাকায় জনগণের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন না করে কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের জন্য ‘প্রেস্টিজ’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। মহিষমুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ১০০ মিটার কাঁচা রাস্তা রেখে ছাত্রলীগ নেতা আল-নাহিয়ান অভির বাড়ির উঠান পর্যন্ত পাকা রাস্তা করা হয়েছে। অথচ দুই পাশের রাস্তা কাঁচা রয়ে গেছে।
কল্যাণী ইউনিয়নের তরোণির ভিটা কবরস্থান ও তৈয়ব মৌজার বালাচাটা হাফিজিয়া মাদরাসার নামে প্রকল্প বরাদ্দ দেখানো হলেও, বাস্তবে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানই নেই।

৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুমন মির্জা বলেন, আমাদের এলাকায় বালাচাটা হাফিজিয়া মাদরাসা বলে কিছু নেই। তাহলে এই টাকার গন্তব্য কোথায়? সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির মদদপুষ্ট হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হক সুমন প্রকাশ্যে অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ এই ইউপি সদস্যের।
বদলির পরও রাতের অফিস, নথি সমন্বয়ের অভিযোগ
সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হক সুমনের বদলির পরও পীরগাছা উপজেলা পরিষদে অস্বাভাবিক কার্যক্রম চলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউএনও বদলির আগেই অফিস সহকারী রেজাউল করিমকে অন্যত্র বদলি করা হলেও পরবর্তীতে প্রায় দেড় মাস নিয়মিত রাতের বেলায় তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কাজ করতে দেখা যায়।
স্থানীয় লোকজন ও অফিস সংশ্লিষ্টদের দাবি, দিনের অফিস সময় শেষে গভীর রাত পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র নিয়ে কাজ করতে দেখা যেত তাকে। এ ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ইউএনওর দায়িত্বকালীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত নথিপত্র সমন্বয় কিংবা সংশোধনের কাজই রাতের এসব কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বদলিকৃত একজন কর্মচারীর নিয়মিত রাতের অফিস কার্যক্রম প্রশাসনিক বিধি-বহির্ভূত এবং বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। তাদের দাবি, ওই সময় অফিসে কী ধরনের নথিপত্র নিয়ে কাজ হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি রেজাউলকে অফিসে ঢুকতে নিষেধ করেছি।
বৈছাআর সমন্বয়কের মাধ্যমে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ
সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হক সুমনের সহযোগিতায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়ে ফারদিন এহসান মাহিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ ও কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের দাবি, গত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন সভা-সেমিনারে ইউএনও’র আমন্ত্রণে নিয়মিত উপস্থিত থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাহিম উপজেলা পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ভিজিএফ, ভিজিডি, ইজিপিপি, টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগ, ক্রীড়া আয়োজন, সরকারি সামগ্রী ক্রয় এবং বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তিতে তিনি সরাসরি হস্তক্ষেপ করতেন। এমনকি শহীদ পরিবারকে মামলা সংক্রান্ত পরামর্শ ও সরকারি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রেও তার সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় ব্যবহার করে মাহিম প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের অজুহাতে সমঝোতার নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে।
৫ আগস্টের পর পীরগাছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বড়দরগা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নেকমামুদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দেউতি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও তাম্বুলপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক পর্যায়ে মাহিমকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। ওই সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ প্রায় অর্ধশত ছাত্র উপস্থিত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাহিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ
সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হক সুমনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করার অভিযোগ রয়েছে। কল্যাণী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্য নেছার আহম্মেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও ইউএনও সুমনের ঘনিষ্ট সহযোগী হিসেবে পরিচিত রাজীব মুন্সিকে।
গত বছরের ৩০ মার্চ ঈদের আগের রাতে দায়ের করা এ মামলায় আসামি করা হয় একাত্তর টেলিভিশন ও দৈনিক সংবাদের পীরগাছা প্রতিনিধি আব্দুল কুদ্দুস সরকার, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার হারুন অর রশিদ বাবু এবং গণকণ্ঠের পীরগাছা প্রতিনিধি শাহীন মির্জা সুমনকে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, কল্যাণী ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ধারণ করে ইউএনও, ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগও আনা হয়।
তবে অভিযুক্ত সাংবাদিকরা দাবি করেছেন, পীরগাছায় আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম, ভিজিএফ চাল বিতরণে দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করায় তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস সরকার বলেন, তথ্য অধিকার আইনে একাধিক প্রকল্পের তথ্য চাওয়ার পর থেকেই ইউএনও ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করানো হয়।
সাংবাদিক হারুন অর রশিদ বাবু জানান, ভিজিএফ বিতরণে অনিয়মের প্রতিবেদন ও প্রতিবাদ মিছিলের লাইভ সম্প্রচারের পরই এ মামলা করা হয়। অপর আসামি শাহীন মির্জা সুমনের অভিযোগ, প্রশাসনিকভাবে প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে বাদী করা হয়েছে।
এদিকে মামলার বাদী নেছার আহম্মেদ নিজেই স্বীকার করেন, ইউএনও ও সংশ্লিষ্টদের পরামর্শেই তিনি মামলার বাদী হয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
যোগ্যতা নয়, ইউএনওর পছন্দেই নিয়োগ
নিয়ম ভেঙে দুই অস্থায়ী প্রকল্প কর্মকর্তাকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নিয়োগের অভিযোগ উঠে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হক সুমনের বিরুদ্ধে। এসব প্রশাসক নিয়োগে অর্থ বাণিজ্যেরও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
খোঁজ জানা গেছে, উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর আলম ও অন্নদানগর ইউপির চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামকে ‘অনুপস্থিতি’ দেখিয়ে দুজন প্রকল্প কর্মকর্তাকে প্রশাসক করা হয়। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর কল্যাণীতে সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (সেসিপ) উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ফারুকুজ্জামান ডাকুয়া ও ১৭ নভেম্বর অন্নদানগরে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকার) উপজেলা ফ্যাসিলেটর আক্তারুজ্জামান ফারুক দায়িত্ব পান।
তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের গত বছরের ১৯ আগস্টের পরিপত্র অনুযায়ী, শুধু প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা অর্থাৎ ইউএনও, এসিল্যান্ড বা সমমানের সরকারি কর্মকর্তারাই প্রশাসক হতে পারেন। অথচ নিয়োগপ্রাপ্ত দুইজনের কেউই সরকারি কর্মকর্তা নন। সেসিপের একাডেমিক সুপারভাইজার ও জাইকার উপজেলা ফ্যাসিলেটর পদটি রাজস্বভুক্ত নয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসক ওই দুই ইউনিয়নে নতুন করে প্রশাসক নিয়োগ করেন।
কল্যাণী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শাহীন মির্জা সুমন বলেন, এই নিয়োগে অর্থ বাণিজ্য হয়েছে। না হলে সরকারি নিয়ম না মেনে কেন প্রশাসক নিয়োগে সুপারিশ করবেন ইউএনও। উপজেলায় তো প্রথম শ্রেণির উপযুক্ত কর্মকর্তার অভাব ছিল না।
আওয়ামী লীগের প্রতি রাজনৈতিক আনুগত্যের অভিযোগ
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে দেশের সকল উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদেরও অপসারণ করা হয়। এর পরপরই সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের ছবি ও পরিচিতি সরিয়ে ফেলা হয়।
তবে অভিযোগ উঠে, দীর্ঘ সময় পরেও পীরগাছা উপজেলা প্রশাসনের সরকারি জাতীয় তথ্য বাতায়নের ওয়েবসাইট হালনাগাদ করা হয়নি। সেখানে রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মিলনের ছবি ও তথ্য বহাল ছিল। একইভাবে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের তথ্যও অপরিবর্তিত অবস্থায় প্রদর্শিত হচ্ছিল। এক পর্যায়ে ছাত্র-জনতার সমালোচনার মুখে ২০২৪ সালের আগস্টের ২৬ তারিখে ওয়েবসাইটটি হালনাগাদ করা হয়।
স্থানীয় ছাত্র-জনতার অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর দেশের অধিকাংশ সরকারি ওয়েবসাইট দ্রুত হালনাগাদ করা হলেও পীরগাছা উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় সংশোধন না হওয়া প্রশাসনিক দায়িত্বে অবহেলার শামিল।
তাদের দাবি, আওয়ামীলীগ ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির প্রতি রাজনৈতিক আনুগত্যের কারণেই তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হক সুমন সময়মতো তথ্য হালনাগাদের উদ্যোগ নেননি। পরে একাধিক পত্রিকায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তিনি ছবি ও তথ্য সরিয়ে দিতে বাধ্য হন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার পরিবর্তে দলীয় প্রভাবের প্রতিফলন ঘটেছে ইউএনও সুমনের কার্যক্রমে। তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
রিলিফের কোরবানির মাংস বিতরণে অনিয়ম
গত বছর ঈদুল আজহাতে পীরগাছায় ইসলামিক রিলিফের গরুর মাংস বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠে তৎকালীন ইউএনও নাজমুল হক সুমনের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, ঈদের দ্বিতীয় দিনে (৯ জুন) ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ, পীরগাছা উপজেলায় ১ হাজার ২২৫ জন হতদরিদ্রদের মাঝে ২ কেজি করে মোট ২ হাজার ৪৫০ কেজি গরুর মাংস বিতরণের জন্য ৩৫টি গরু কোরবানি করে সংস্থাটি। তবে অধিকারভোগীদের তালিকা প্রণয়নে করা হয় অনিয়ম। সেখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ১০০ জনের চাহিদা তালিকা দেয়ার পাশাপাশি তার কার্যালয়ের কিছু সরকারি কর্মচারীর নামও যুক্ত করে দেন।
এভাবে বিতরণ করায় প্রকৃতি গরিব কর্মঅক্ষম অসহায় হতদরিদ্রদের স্থলে সরকারি, বে-সরকারি চাকুরিজীবী, সম্পদশালী, ব্যবসায়ী, ছাত্র, ইউপি সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা সুবিধা ভোগ করেছেন।
সংস্থাটির ম্যানেজানের দাবি, গরুর মাংস মূলত ইসলামিক রিলিফের সুবিধাভোগী সদস্যদের মাঝে বিতরণের নিয়ম। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ অন্যরা অবদার করায় তাদের চাহিদা অনুযায়ী কোরবানির মাংস বরাদ্দ দেয়া হয়।
অনিয়মের খোঁজে প্রকল্প এলাকায় দুদকের তদন্ত টিম
গত বছর ০৩ জুলাই দুদক রংপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল শল্লারবিল আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। সে সময় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় অধিকতর তদন্তের জন্য ঢাকা অফিসে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। দীর্ঘ সময় পর এ বছরের গত ৫ ফেব্রুয়ারি সাবেক ইউএনও নাজমুল হক সুমনের বিরুদ্ধে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে দুদকের বিশেষ টিম। দুদকের উপ-পরিচালক (ডিডি) মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি টিম এ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন, সাবেক ইউএনও নাজমুল হক সুমন ও তৎকালীন পিআইও আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে সহযোগিতার জন্য তাদের ডাকা হলেও সাবেক ইউএনও উপস্থিত হননি।
এদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে তৎকালীন ইউএনও নাজমুল হক সুমনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। গত বছরের ২৮ অক্টোবর অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।
জানা গেছে, মুজিববর্ষের আশ্রয়ণ প্রকল্প, কাবিখা-কাবিটা, রাস্তা সংস্কার ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত অর্থের বড় একটি অংশ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ব্যয় ও আত্মসাত করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদার নির্বাচন, কাজের বিল প্রদান এবং প্রকল্প অনুমোদনে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে বাস্তবে কাজ না করেই কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের কাজ দেখিয়ে সম্পূর্ণ বিল উত্তোলন করা হয়। এতে সরকারের অর্থের বড় ধরনে অপচয় হয়েছে।
তদন্ত যেন শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে, দাবি স্থানীয়দের
স্থানীয়রা দাবি করছেন, এই তদন্ত যেন শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে যেন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আগের সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও জেলা প্রশাসন অভিযোগের বিষয়ে পৃথকভাবে তদন্ত করলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সাবেক ইউএনও নাজমুল হক সুমন বর্তমানে ঠাকুরগাঁয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত থাকার সুবাদে তদন্ত বন্ধ রাখাসহ অভিযোগগুলো ভিন্নখাতে নিতে দেনদরবার অব্যাহত রেখেছেন।
বিষয়টি নিয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ জেলা প্রশাসকের কাছে জমা পড়লে প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ইউএনওর ভূমিকা সরাসরি পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং প্রয়োজন হলে দুর্নীতি দমন কমিশনে নথি পাঠানো হবে।
এদিকে, এর আগে বিভিন্ন সময়ে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন নাজমুল হক সুমন। এমনকি অভিযোগগুলোকে ভিন্নখাতে দেখাতে ভাড়াটে লোক দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পাশাপাশি নানা অপপ্রচার এবং মিছিল-মিটিংও করানোর বন্দোবস্ত করেছেন সাবেক এই ইউএনও।
এসব বিষয়ে কথা বলতে পীরগাছার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) নাজমুল হক সুমনের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে বক্তব্য চাইলে তিনি প্রশ্ন দেখে অন্য প্রসঙ্গে কথা বললেও নির্ধারিত প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি।
রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে।
আরকে