দালালের প্রতারণায় স্বপ্নভঙ্গ, লাশ হয়ে ফিরলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জাহিদুল

ভাগ্য বদলের আশায় জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে পাড়ি জমিয়েছিলেন মালয়েশিয়ায়। কিন্তু দালালের প্রতারণায় সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। ভিসা জটিলতা, ঋণের বোঝা আর মানসিক চাপে শেষ পর্যন্ত প্রবাসেই প্রাণ হারান নাটোরের বাগাতিপাড়ার সন্তান জাহিদুল ইসলাম (৪৪)।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মৃত্যুর ১০ দিন পর লাশবাহী গাড়িতে করে নিথর দেহ ফিরল তার নিজ বাড়িতে।
জাহিদুলের মরদেহ পৌঁছানোর পর উপজেলার হাটদৌল গ্রাম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস। নিহত জাহিদুল ইসলাম ওই এলাকার মৃত অছিমদ্দিনের ছোট ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে মালয়েশিয়ায় যান জাহিদুল। জেলা সদরের তেঘরিয়া বাজার এলাকার শহিদুল ইসলাম নামের এক দালালের মাধ্যমে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কথা ছিল, বৈধভাবে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এ জন্য শহিদুলকে ৬ লাখ টাকা দেয় জাহিদুলের পরিবার। কিন্তু দালাল তাকে কাজের ভিসার পরিবর্তে স্টুডেন্ট ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাঠান।
অভিযোগ রয়েছে, মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় জাহিদুলের দুর্ভোগ। দালালের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজের কোনো বৈধ ভিসা তিনি পাননি। দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটান। একপর্যায়ে পেটের তাগিদে একটি সবজি বাগানে অস্থায়ীভাবে কাজ নেন। কিন্তু ভিসা না থাকায় পুলিশের ভয়ে তাকে বেশিরভাগ সময় ঘরবন্দি থাকতে হতো।
নিহতের পরিবারের দাবি, ঋণের চাপ, বৈধ হওয়ার অনিশ্চয়তা এবং পরিবারের চিন্তায় জাহিদুল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণেই তিনি স্ট্রোক করে মারা যান।
জাহিদুলের স্ত্রী হাওয়া বেগম বলেন, আমার স্বামী সংসারের উন্নতির জন্য জমি বিক্রি করে ও মানুষের কাছে হাত পেতে টাকা জোগাড় করে বিদেশ গিয়েছিল। কিন্তু দালাল শহিদুলের মিথ্যা আশ্বাসে আজ আমরা সব হারালাম। আমি স্বামী হারালাম, সন্তানেরা এতিম হলো। আমি এই দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যেন আর কোনো পরিবার এমন সর্বনাশের শিকার না হয়।
তিনি জানান, জাহিদুলের ভিসা জটিলতা নিয়ে পরিবারের সদস্য ও গ্রাম্য সালিশকারীরা একাধিকবার দালাল শহিদুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। কিন্তু তিনি কোনো সমাধান দেননি। বর্তমানে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম গা ঢাকা দিয়েছেন। অভিযুক্ত দালালের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার।
আশিকুর রহমান/এসএইচএ