হামলায় আহত সাংবাদিক নয়ন দাসকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন জামায়াত নেতা

শরীয়তপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বের হয়ে মাদক কারবারি ও জুয়াড়িদের হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা পোস্টের জেলা প্রতিনিধি নয়ন দাস (২৯)। এ ঘটনায় আহত নয়ন দাসের খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে ছুটে গেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ আজাহারুল ইসলাম। তিনি শরীয়তপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসাধীন নয়ন দাসের সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি।
জানা যায়, সম্প্রতি নাগেরপাড়া এলাকায় এক মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে প্রতিবেদন করার জন্য ঘটনাস্থলে যান ঢাকা পোস্টের সাংবাদিক নয়ন দাস, যুগান্তরের স্থানীয় প্রতিনিধি শাহেদ আহম্মেদ বাবু, দেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক আলম সরদার ও স্থানীয় সাংবাদিক হাসান শিকদার। এ সময় স্থানীয়রা জানান- পাশের উত্তর মলংচড়া এলাকায় মাদক ব্যবসার পাশাপাশি একটি জুয়ার আসর বসে। পরে সেখানের কিছু চিত্র ও ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করেন ওই তিন সাংবাদিক। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয় মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ার আসর পরিচালনাকারী মনির জমাদার ও তার লোকজন।
এ ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পেশাগত কাজে শরীয়তপুর শহরের উদ্দেশ্যে বের হলে পথিমধ্যে নাগেরপাড়া বাজারে নয়ন দাসের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে আটকে রেখে হামলা চালায় মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়ি সাইদুল আকন, মনির জমাদার, নজরুল কাজী, লিখন কাজী ও তাদের সহযোগীরা। হামলায় নয়ন দাস আহত হলে পালিয়ে যান হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দিলে রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নয়ন দাস। পরে তাকে গতকাল শুক্রবার সকালে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবির জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজ ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। এ ঘটনায় আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নয়ন দাসকে দেখতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ আজাহারুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকরা দেশের দর্পণ। তারা সমাজ ও জাতীয় অসঙ্গতিগুলো জাতির সামনে তুলে ধরেন। মাদক কারবারি ও জুয়াড়িদের দ্বারা সাংবাদিক নয়ন দাস আহত হয়েছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আহত সাংবাদিক নয়ন দাস ও তার পরিবারকে ধৈর্য্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়েছি। তার সুস্থ্যতা কামনা করছি। প্রশাসনকে অনুরোধ করব, তারা যেন দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করেন।
এ সময় মুহাম্মদ আজাহারুল ইসলামের সঙ্গে ছিলেন গোসাইরহাট উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সৈয়দ নাছির উদ্দিন, সেক্রেটারি সরকার নেওয়াজ শরীফ, পৌরসভা আমির আবু তাহের, সেক্রেটারি নোমান সিদ্দিক প্রমুখ।
নয়ন দাস/আরএআার