লেবু হালি ২৫ টাকা, লাউ ১২

বগুড়া জেলার বৃহত্তম কাঁচা শাকসবজির পাইকারি বাজার মহাস্থান হাটে সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে কৃষকেরা ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেল ও ভ্যানে করে মাঠ থেকে তোলা টাটকা সবজি নিয়ে হাটে আসছেন। তবে সরবরাহ বেশি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে নামমাত্র দামে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
রোববার (১ মার্চ) সকালে সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির দামে ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিকভাবে নিম্নমুখী প্রবণতা রয়েছে। প্রকারভেদে লেবু প্রতি পিস ৭-৯ টাকা, হালি ২৫-২৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ২০-২৫ টাকা, খিরা ৪০ টাকা এবং শসা ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর দাম কমে ২০ টাকায় নেমেছে, যা আগে ছিল ৩০ টাকা। বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৮ টাকা কেজি দরে।
লাউয়ের দামে বড় পতন দেখা গেছে আগে ৩০ টাকা থাকলেও বর্তমানে ১২-১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টি কুমড়ার দামও কমে ২০-৩০ টাকায় নেমেছে। তবে আলু ও ফুলকপির দাম কিছুটা বেড়েছে। আলু সপ্তাহখানেক আগে ১০-১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৫-১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকায়, যা আগের তুলনায় কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেশি।
স্থানীয়দের মতে, চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সরবরাহ, বাইরের পাইকার কম আসা এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে কৃষকেরা কম দামে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে উৎপাদন ব্যয়, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা কৃষক আফতাব আলী বলেন, এক সপ্তাহ আগে লেবু হালি ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি করেছি। আজ তা ২৫-২৮ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে, প্রতি পিস ৭-৯ টাকা।
সোনাতলা উপজেলার কৃষক আলম মিয়া বলেন, এক সপ্তাহ আগে টমেটোর দাম বেশি ছিল। হঠাৎ করে বাজারে দাম কমে গেছে। এভাবে থাকলে খরচের টাকা উঠবে না। সারসহ উৎপাদন খরচ কমানো হলে কৃষকের জন্য সুবিধা হবে।
মহাস্থান হাটের আড়তদার চয়ন ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী মমিনুল ইসলাম বলেন, হাটে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪০টি আড়ৎ রয়েছে। প্রতিদিন ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ৫০ ট্রাক সবজি পাঠানো হচ্ছে। অতিরিক্ত সরবরাহের কারণেই দাম কিছু টা কমছে। রমজানের শুরুতে সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দাম কিছু টা কমায় ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
আব্দুল মোমিন/আরকে