আরব আমিরাতে নিহত বাংলাদেশির বাড়িতে শোক, মরদেহ দেশে আনার দাবি

ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত বাংলাদেশি সালেহ আহমেদের মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা বিলাপ করেছেন। সবার একটাই চাওয়া দ্রুত সময়ে যেন লাশটা দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়। নিহত সালেহ আহমেদ মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পৌরসভার গাজিটেকা এলাকার ছবর আলীর ছেলে।
সালেহ আহমেদের বাড়িতে দেখা যায়, গতকাল রাতে সালেহ আহমেদের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-েস্বজনরা শোকে কাতর। তাদেরকে এলাকার মানুষজন এসে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। সালেহ আহমেদের এমন মৃত্যু পরিবারের সদস্যদরা মেনে নিতে পারছেন না। বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাড়িতে এসে সান্ত্বনা দিয়েছেন। সকলের একটাই চাওয়া দ্রুত সময়ে যেন লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করে সরকার।
এর আগে গত শনিবার আরব আমিরাতে সন্ধ্যায় সালেহ আহমেদ ইফতার শেষে জরুরি খাদ্য-পানীয় সরবরাহের কাজে বের হন। তার সঙ্গে আরও একজন সহকর্মী ছিলেন। তখন ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলা করছিল। হঠাৎ আকাশে আগুনের মতো উজ্জ্বল একটি বস্তু দেখা যায়। মুহূর্তেই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সালেহ আহমেদ গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে থাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, সালেহ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে আরব আমিরাতে কাজ করছেন। সারা জীবন কষ্ট করেছেন। এভাবে মারা যাবেন আমরা কেউ কখনও চিন্তা করিনি। পরিবারের সবাই একদম ভেঙে পড়েছে।
সালেহ আহমেদের বড় ছেলে আব্দুল হক বলেন, আমরা আর কিছু চাই না। আমার বাবার লাশ দ্রুত সময়ে আমাদেরকে এনে দেওয়া হোক। আমার বাবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারি ছিলেন। আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে।
বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, নিহত সালেহ আহমেদের বাড়িতে গিয়ে সবার সাথে কথা বলেছি। পুরো পরিবার শোকে কাতর। লাশটা দ্রুত দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন সবাই।
এমএএস