বরিশালে এজলাসে ভাঙচুরের মামলায় ১১ জনের জামিন

বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ভাঙচুর ও আদালতের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির ঘটনায় গ্রেপ্তার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনসহ একই মামলায় এজাহারভুক্ত আরও ১০ জন আইনজীবীকে জামিন দিয়েছেন আদালত। তবে আরেক আসামি মিজানুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে দ্রুত বিচার আদালতে জামিন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিরাজুল ইসলাম রাসেল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ১২ আইনজীবীর জামিন শুনানি হয়। শুনানি শেষে ২০০ টাকার মুচলেকায় ১১ জনকে জামিন দেওয়া হলেও ৬ নম্বর আসামি মিজানুর রহমান সাঈদের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী কে এম জুবায়ের বলেন, আদালত নথি ও যুক্তি পর্যালোচনা করে একজন বাদে সবার জামিন মঞ্জুর করেছেন।
তিনি আরও জানান, মামলার প্রধান আসামি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে পুলিশ আগেই গ্রেপ্তার করেছিল। আজ বাকি আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত একজন ছাড়া সবার জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিনপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক নাজিমউদ্দিন পান্না, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, আব্দুল মালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু, মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তারেক আল ইমরান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন ও বসির উদ্দিন সবুজ।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আদালতের চেম্বার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে। বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুসকে জামিন দেওয়াকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানিকালে আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ কয়েকজন এজলাসে ঢুকে ভাঙচুর চালান এবং বিচারককে চেয়ার ছাড়তে বাধ্য করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়। এ ঘটনায় বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বাদী হয়ে ১২ আইনজীবীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। এছাড়া আদালত অবমাননার দায়ে ৯ আইনজীবীর বিরুদ্ধে রুল জারি করেন উচ্চ আদালত। অভিযুক্ত ১২ আইনজীবীর সনদ বাতিলের আবেদনও করা হয়েছে।
আরএআর