ফরিদপুরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা

ফরিদপুরে রাজু ওরফে বাটুল রাজু (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০টার দিকে শহরের স্টেশন বাজার এলাকায় ওই ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত রাজু ফরিদপুর শহরের দুই নম্বর কুটিবাড়ী মহল্লার স্টেশন বাজার মুসলিম কলোনি এলাকার বাসিন্দা বাবলু কসাইয়ের ছেলে। রাজু বিবাহিত এবং এক মেয়ে ও এক ছেলের বাবা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী শিল্পী বেগমের জামাতা হৃদয় শেখ ও তার আরও চার-পাঁচজন সহযোগী চাপাতি, রামদাসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাজু ওরফে বাটুল রাজুর ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা রাজুর দুই পা ও ডান হাতের বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়।
ঘটনার প্রায় ১০ মিনিট পর এলাকাবাসী গুরুতর আহত অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহত রাজুর মা ছবি বেগম জানান, কিছুদিন পূর্বে শহরের স্টেশন বাজার সংলগ্ন লাশ কাটা বস্তি এলাকায় সেনাবাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানকালে তারা মাদক ব্যবসায়ী শিল্পীকে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক করে। এ ঘটনায় রাজু জড়িত সন্দেহের বশবর্তী হয়ে শিল্পীর জামাতা হৃদয় তার সহযোগীদের নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। হৃদয় ও তার সহযোগীরা তার ছেলেকে ধরে আগে চোখেমুখে হলুদের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। এ সময় তার ছেলে নিচে পড়ে গেলে তাকে কুপিয়ে জখম করে ও পায়ের রগ কেটে দেয়।
তিনি বলেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই, ফাঁসি চাই। এ হত্যার বিচার না হলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বাড়তেই থাকবে।
পুলিশ জানায়, নিহত রাজুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে হৃদয় শেখ নামে যার কথা শোনা যাচ্ছে, সে একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী এবং একাধিকবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, এই ঘটনার পর পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্নস্থানে কাজ করছে এবং এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার এজাহার এখনও আমরা পাইনি। এজাহার পাওয়ার পর দোষীদের গ্রেপ্তারের জন্য সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে।
তিনি বলেন, ফরিদপুর রেল স্টেশন কলোনি ও বস্তি এলাকায় মাদকের কারবার হয় বলে আমরা জানতে পেরেছি। এই দুটি জায়গায় যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত, তাদের তালিকা করে গ্রেপ্তারের অভিযান আজ থেকে শুরু হবে।
জহির হোসেন/আরকে