বরগুনায় ফাঁদসহ জবাই করা দুটি হরিণ উদ্ধার

বরগুনার পাথরঘাটায় জবাই করা দুটি হরিণ ও শিকারের জন্য ফাঁদসহ মো. হানিফ (৪৫) নামে এক শিকারীকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। আটক ওই শিকারী পাথরঘাটা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল বাশারের ছেলে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরের দিকে বন বিভাগের পাথরঘাটা সদর বিট অফিসার আব্দুল হাই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আটক হরিণ শিকারী মো. হানিফকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাদুরতলা খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে শিকারকৃত জবাই করা হরিণ ও ফাঁদ উদ্ধারসহ শিকারী হানিফকে আটক করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন বিভাগের সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি অভিযান পরিচালনা করেন কোস্টগার্ড সদস্যরা। এ সময় উপজেলার বাদুরতলা খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে শিকারকৃত আনুমানিক ৪ মণ ওজনের দুটি জবাই করা হরিণসহ শিকারের ৯০০ ফুট ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারও জব্দ করেন তারা।
তবে অভিযানের বিষয় টের পেয়ে শিকারীদের মধ্যে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও শিকারী মো. হানিফকে আটক করতে সক্ষম হয় কোস্টগার্ড সদস্যরা। পরে সংক্ষিপ্ত এক বিচারিক ব্যবস্থা পরিচালনার মাধ্যমে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. পনির শেখ আটক ওই শিকারীকে এক বছরের কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে তাকে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডও প্রদান করেন তিনি।
বন বিভাগের পাথরঘাটা সদর বিট অফিসার আব্দুল হাই বলেন, বিষখালী নদী থেকে ধাওয়া দিয়ে বাদুরতলা খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে দুটি জবাই করা হরিণ ও ফাঁদ উদ্ধারসহ শিকারী মো. হানিফকে আটক করা হয়। তবে এ সময় তার সঙ্গে থাকা অন্তত আরও ৪ জন শিকারী পালিয়ে যায়। পরে আটক ওই শিকারীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড প্রদানসহ উদ্ধারকৃত জবাই করা হরিণ দুটিকে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।
আব্দুল আলীম/এসএইচএ