নওগাঁয় ট্রাক্টর চাপায় যুবক নিহত, ট্রাক্টরে অগ্নিসংযোগ

নওগাঁয় ইটভাটার ট্রাক্টরের চাপায় রিমন হোসেন (৩০) নামে মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ইটভাটার কাজে ব্যবহৃত চারটি ট্রাক্টর ও একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিনে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের কাদিমপুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রিমন হোসেন সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর গ্রামের শাহীন হোসেনের ছেলে। তিনি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে রিমন হোসেন প্রাইভেট পড়ানোর উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি থেকে আড়চা গ্রামে যাচ্ছিলেন। এ সময় কাদিমপুর নামক স্থানে বিপরীত দিক থেকে আসা বিবিসি ইটভাটার মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
এ ঘটনার পর এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে নওগাঁ-বদলগাছী আঞ্চলিক মহাসড়কের কীর্ত্তিপুর গ্রামের শশীর মোড়ে অবস্থিত বিবিসি ইটভাটায় গিয়ে চারটি ট্রাক্টর ও একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরে আঞ্চলিক মহাসড়কে তারা অবস্থান নিয়ে ইটভাটা বন্ধের দাবি জানায়। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন, থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ইটভাটা ভেঙে দেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। পরে ফায়ার সার্ভিস ও ইটভাটার কর্মীরা পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, ট্রাক্টরের চাপায় শিক্ষক রিমন হোসেন মারা যান। ঘটনার পর ট্রাক্টরটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক রয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মনিরুল ইসলাম শামীম/আরএআর