বাড়িতে গায়ে হলুদের প্রস্তুতি, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল মেয়ের মায়ের

বাড়িতে যখন মেয়ের গায়ে হলুদের আয়োজন, আত্মীয়-স্বজনের আনাগোনা আর বিয়ের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সবাই ঠিক তখনই নেমে এলো শোকের ছায়া।
গোয়ালঘরে লিকেজ বিদ্যুতের সংস্পর্শে প্রাণ হারালেন এক মা। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে গরুর দুধ আহরণের জন্য গোয়ালঘরে যান দীপিকা সানা (৩৫)। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে থাকা বৈদ্যুতিক লাইনের লিকেজ থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে সব শেষ।
স্থানীয় সমাজকর্মী কৃষ্ণ ব্যানার্জী জানান, ঘুঘুমারি গ্রামের কৃষক দেবাশীষ সানার স্ত্রী দীপিকা সানা সকালে গোয়ালঘরে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক শোকের সৃষ্টি করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীপিকা-দেবাশীষ দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান অর্পিতা সানার (১৮) বিয়ে ঠিক হয়েছিল। বাড়িতে চলছিল বিয়ের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নিজ হাতে ঘরদোর গুছিয়ে মেয়ের নতুন জীবনের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন মা দীপিকা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই আনন্দঘন আয়োজন মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে।
খাজরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। একটি বিয়ে বাড়ি মুহূর্তে শোকের বাড়িতে পরিণত হয়েছে। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গেছে, দীপিকা-দেবাশীষ দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে অভীক সানা (১৯), অর্পিতা সানা (১৮) ও অর্ণব সানা (৯)। সন্তানদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কঠোর পরিশ্রম করতেন। গ্রামের মানুষ জানান, সংসারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্নই ছিল দীপিকার একমাত্র লক্ষ্য।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ খান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ইব্রাহিম খলিল/এসএইচএ