শঙ্কা কেটেছে ডা. মাহমুদা মিতুর, হাসপাতাল থেকেই দিলেন আশার খবর

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ডেপুটি চিফ অর্গানাইজার ডা. মাহমুদা আলম মিতুর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এক সপ্তাহের বেশি সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার (৪ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বর্তমানে তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন জানান এবং এলাকাবাসীর জন্য আশার খবর দিয়েছেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, টানা আট দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর এখন তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ড্রেইন টিউব ও ক্যানুলা খুলে নেওয়ার পর নিজেকে কিছুটা স্বস্তিতে অনুভব করছেন। দীর্ঘ সময় আইভি সাপোর্টে থাকায় হাতে ক্যানুলা দেওয়ার জায়গা না থাকায় শেষ পর্যন্ত শিশুদের ক্যানুলা ব্যবহার করতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নানা জটিলতায় শরীরের ওপর ধকল গেলেও এখন ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে আছেন বলে জানান।
গত ২৩ ফেব্রয়ারি গাইনোকোলজিক্যাল জটিলতা নিয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের আগে তিনি প্রায় শক অবস্থায় ছিলেন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর ফুসফুসে সংক্রমণ, রক্তের বিভিন্ন সূচকের অস্বাভাবিকতা ও নতুন করে শনাক্ত ডায়াবেটিসসহ একাধিক জটিলতা দেখা দেয়।
পোস্টে তিনি আরও জানান, ঝালকাঠি-১ আসনের কাঠালিয়া ও রাজাপুর উপজেলার মসজিদ-মাদরাসার জন্য বিশেষ বরাদ্দ আগেই অনুমোদন পেয়েছিলাম। তবে নির্বাচনকালীন কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সেই বরাদ্দ বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। প্রতি মসজিদ ও মন্দিরে দুই লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা রয়েছে। যদিও প্রস্তাবিত সব প্রতিষ্ঠানের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং যারা এবার পাননি, তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, কাঠালিয়ার রাস্তাঘাট উন্নয়নের জন্য অনুমোদিত ১১৩ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজও শিগগিরই শুরু হবে। বরাদ্দকৃত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে এলাকাবাসীর প্রতি নজরদারির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
ডা. মিতু বলেন, দলমত নির্বিশেষে অবহেলিত এই অঞ্চলের উন্নয়নই তার লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অবকাঠামোগত ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এখনও অনেক সড়কে জরুরি সেবা পৌঁছানো কঠিন। জনগণের অধিকার রক্ষায় তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান।
উল্লেখ্য, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ডা. মাহমুদা আলম মিতু স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কাছে কাঠালিয়া ও রাজাপুর উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, মাদরাসা, কবরস্থান, এতিমখানা ও ঈদগাহের উন্নয়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনটি ডিসেম্বরে অনুমোদন পেলেও নির্বাচনের কারণে তখন তা বাস্তবায়ন বা বিতরণ করা হয়নি।
শাহীন আলম/আরকে