ইবি শিক্ষিকাকে হত্যা: বারবার মাকে দেখতে চাইছে ৪ শিশু, থামছে না কান্না

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই সংবাদ শোনার পর থেকেই স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
এদিকে তাইবা (৯), তাবাসসুম (৭), আয়েশা (৭ মাস) ও এক ছেলে সাজিদের (৫) মা মৃত আসমা সাদিয়া রুনা। তারা বারবার ছুটে যাচ্ছে মায়ের মরদেহের কাছে। মাকে দেখার আকুতি যাচ্ছে। মায়ের মুখ দেখে কান্না থামছে না তাদের।
নিহত শিক্ষিকা রুনার বাবা আশিকুল হক কান্নারত অবস্থায় বিলাপ করতে করতে বলেন, আমার অনেক স্বপ্ন ছিল মেয়েকে নিয়ে। এই মেয়ে আমার বড় মেয়ে। এখন তার চারটা বাচ্চা এতিম হয়ে গেল। মা ছাড়া এই এতিম বাচ্চাদের কি হবে। কে দেখবে এখন তাদের। ছোট বাচ্চাটা কিভাবে মানুষ হবে মাকে ছাড়া।
গতকাল বুধবার বিকেল থেকেই নিহত শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনার মরদেহ সারারাত কুষ্টিয়া আড়াই’শ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা ছিল। সকাল ১০টায় ময়নাতদন্ত শেষে নিহত শিক্ষিকার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সকালে শিক্ষিকার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিক্ষিকার গলার ডান পাশে নিচের দিকে গভীর আঘাতের চিহ্ন আছে। তার গলার রক্তনালী কেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া শরীরের ১৮টি জখমের চিহ্ন আছে।
আরএমও ডা. হোসেন ইমাম ঢাকা পোস্টকে আরও বলেন, এ ঘটনায় আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমানের অবস্থা এখন শঙ্কামুক্ত। যেহেতু সে তার শ্বাসনালী নিজেই কেটেছে এতে বড় ক্ষত হয়েছে। তার শ্বাস নেওয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাকে নিবির পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। তার পরিবার ফজলুকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি বলেন, পুলিশী পাহারায় তার চিকিৎসা চলমান। শ্বাসনালী কেটে যাওয়ায় সে কথা বলতে পাছে না। তবে ডাকলে সে সাড়া নিচ্ছে। পুলিশ তার লিখিত জবানবন্দি নিয়েছে।
গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে নিজ কক্ষে বসে থাকা অবস্থায় ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করে ঘাতক ইবির কর্মচারী ফজলুর রহমান নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ফজলুর রহমান বর্তমানে কুষ্টিয়া আড়াইশ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
রবিউল আলম/আরকে