গাইবান্ধার দুর্গম চরে আলো জ্বালাবে শিক্ষার্থীদের দেওয়া সৌরবিদ্যুৎ

সূর্য ডুবলেই যে চরে নেমে আসত নিকষ কালো অন্ধকার, সেই চরে এখন ব্যস্ততা আলোর প্রস্তুতিতে। হারিকেন আর কুপিবাতির যুগ পেছনে ফেলে নতুন ভোরের অপেক্ষায় দিন গুনছে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চর রসুলপুরবাসী।
দুর্গম এই চরে বিদ্যুৎবিহীন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ২০টি অবহেলিত পরিবারের ঘরে আলো পৌঁছে দিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ করছে প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা শিক্ষার্থীদের সংগঠন "গ্রিন ইয়ুথ অ্যালায়েন্স"। যার সহযোগিতায় রয়েছে দ্য আর্থ সোসাইটি এবং অর্থায়ন করছে ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট।
উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বালাসীঘাট পার হলেই চর রসুলপুর। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে চরটিতে গেলে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে কারিগররা ব্যস্ত সোলার সিস্টেম স্থাপনে। বিনামূল্যে সোলার পাওয়া পরিবারগুলোর সদস্যরা আগ্রহভরে কাজ দেখছেন। নারী-পুরুষ সবার চোখেমুখে উচ্ছ্বাস। একসঙ্গে একাধিক বাড়িতে চলছে প্যানেল বসানোর কাজ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিটি পরিবারের জন্য পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ২০০ ওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটে রয়েছে সোলার প্যানেল, চার্জ কন্ট্রোলার, ব্যাটারি ও এলইডি লাইট। ইতোমধ্যে প্যানেল স্থাপন, ব্যাটারি সংযোগ এবং প্রাথমিক বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ শেষ হলেই উপকারভোগী পরিবারগুলোর ঘরে আলো জ্বলবে। এতে লাইট জ্বালানো, মোবাইল চার্জ করা এবং ছোট বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারবে। প্রতিটি প্যানেল দিয়ে তিনটি ছোট ফ্যান, তিনটি লাইট ও একটি টেলিভিশন চালানো সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।
চর রসুলপুরের স্থানীয় বাসিন্দা ও সুবিধাভোগী বিজু মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের নিত্যদিনের জীবন ছিল দুর্বিষহ। বিশেষ করে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, পরিবারের নিরাপত্তা আর মোবাইল চার্জ করা—সবই ছিল বড় সমস্যা। এখন সোলার বিদ্যুৎ চালু হলে বাচ্চাদের পড়াশোনা অনেক সহজ হবে। আমরাও ভালভাবো চলাফেরা করতে পারব।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম আক্তার জানায়, আগে কুপি বা হারিকেনের আলোয় পড়তাম। এখন কারেন্টের আলোয় পড়তে পারব, গরমে ফ্যানের বাতাস পাব—অনেক ভালো লাগছে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মারুফ হাসান বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। তাই টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিকল্প জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা এই পর্যায়ে চরের ছোট্ট এই অংশের একটি মসজিদ, একটি বেসরকারি এনজিওর স্কুলে ২০০ ওয়াটের সোলার প্যানেল স্থাপন করছি। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পুরো কাজ শেষ হলে এই চরে একযোগে ২০টি পরিবারে আলো জ্বলবে। এসময় তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এসএইচএ