রাজবাড়ীতে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ পৌর বাসিন্দারা, নির্বিকার কর্তৃপক্ষ

রাজবাড়ী পৌরসভার সকল এলাকায় সকাল-দুপুর-বিকাল-রাত সব সময়ই মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বসবাসকারী নাগরিকরা।
পৌর কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের যেসব সেবা দিয়ে থাকে, তার মধ্যে মশক নিধন অন্যতম কাজ। কিন্তু এ কাজটিই ঠিকমতো করছে না পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক বছর ধরে সেদিকে কোন নজর না দিয়েই কর্তৃপক্ষ নির্বিকার রয়েছে। যার কারণে পৌর এলাকার অধিকাংশ জায়গায় বিশেষ করে যেসব এলাকায় ড্রেন রয়েছে, সেখানে মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করায় পৌর নাগরিকরা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
রাজবাড়ী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ, ড্রেনের মধ্যে আবর্জনায় ভরপুর থাকায় এবং নিয়মিত নিধন কার্যক্রমের অভাবে মশার উপদ্রব বেড়েছে। আগে শহরে মশকনিধন কার্যক্রম স্থানীয় জনপ্রতিনিধি দেখভাল করতো। কিন্তু বর্তমানে জনপ্রতিনিধি না থাকা, ফগার মেশিন নষ্ট, মশা নিধনের ঔষধ সংকটসহ বিভিন্ন কারণে ২ থেকে ৩ বছর যাবৎ শহরের এলাকায় মশা নিধনের কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। ড্রেনে দেওয়া হয়নি কীটনাশক। ফগার মেশিনের শব্দও কেউ পায়নি।
রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোকেশনাল রোডের বাসিন্দা রনি জানান, বাড়ির পাশে পৌরসভার ড্রেন থাকায় সকাল থেকে রাত সবসময়ই প্রচুর মশার উপদ্রব থাকে। আর এই মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে সবসময় মশার কয়েল ব্যবহার করতে হয়। কয়েল ব্যবহার না করলে মশা কামড়ে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের সম্ভাবনা থাকে। তেমনি কয়েল অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পরিবারের মহিলাদের শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। অথচ পৌর কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে থেকে প্রতি বছর নাগরিক সুবিধা দেবার নামে কোটি কোটি টাকা ট্যাক্স নিলেও মশা নিধন, রাস্তাঘাটের পাশের জঙ্গল পরিষ্কার, ড্রেন পরিষ্কারের মতো ন্যূনতম সেবা প্রদান করে না।
পৌরসভার টিঅ্যান্ডটি জমিদার সড়ক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এই এলাকার একমাত্র পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে ভরে আছে। ড্রেনের নোংরা পানি রাস্তার ওপর উঠে এসেছে। এতে একদিকে যেমন দুর্গন্ধ ছাড়াচ্ছ, অন্যদিকে মশা-মাছির উৎপাত বেড়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি কয়েকবার জানানো হলেও তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রুহুল জানান, আমাদের বাসার পাশে ড্রেন ও কিছু ডোবা থাকায় সেগুলো মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আবার অনেক জায়গায় ড্রেন ও রাস্তার পাশে ঝোপ পরিষ্কার না করায় সেসব জায়গায় মশা জন্মাচ্ছে। যা দিন দিন ভয়াবহ হচ্ছে। আমরা চাই পৌর কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
রাজবাড়ী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহা. রবিউল হক বলেন, আমাদের তিনটি ফগার মেশিন ভালো রয়েছে। আমরা মশক নিধনের কাজ শুরু করেছি। মসকুইটো, ২০০ লিটার মেডিসিন সংগ্রহ করেছি। লার্ভিসাইড মারার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত ঔষধ রয়েছে। আমরা অতি দ্রুত লার্ভিসাইড ড্রেনে দেবো। তবে পাইলট বেসিসে যেসব জায়গায় সমস্যা বেশি আছে সেখানে দিচ্ছি। এছাড়াও পৌর এলাকার ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এসএইচএ