অনাবৃষ্টি-সেচ সংকটে মৌলভীবাজারে বোরো ধানে পোকার আক্রমণ

মৌলভীবাজারে বোরোধান খেতে মাজরা পোকা দেখা দিয়েছে। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করার জন্য কীটনাশক স্প্রে করছেন কৃষকেরা। অনাবৃষ্টি ও পানির সংকট থাকায় দিনদিন বেড়েই চলেছে এই সমস্যা। কৃষকেরা স্থানীয় কৃষি ঘর ও মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। এতে করে সেচ খরচের পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচ বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত বোরো ধানের ফলন নিয়ে বাড়তি চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
জেলার কৃষকেরা বলেন, ধানের চারা রোপণের কয়েক সপ্তাহ যেতে না যেতেই এখন পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। মাজরা পোকার সাথে এক ধরনের পোকা ধান গাছের ডিগ পাতা কেটে দিচ্ছে। এছাড়া আরও রোগবালাই দেখা দিয়েছে। পোকা নিধনের জন্য কীটনাশক স্প্রে করলেও কাজ হচ্ছে না। এছাড়াও অনেক কৃষকের ধানগাছ লাল হয়ে যাচ্ছে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বোরোধানের চলতি মৌসুমে জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনাবৃষ্টির কারণে কিছু জমিতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। যেসব ধান গাছের ডিগ পাতা পোকায় কেটে দিচ্ছে, এগুলো আবার গজিয়ে উঠবে। পোকার আক্রমণ থেকে ধানগাছ রক্ষা করার জন্য কৃষি অফিস থেকে সব সময় কৃষকদেরকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে জেলার বোরোধান খেত ও কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশিরভাগ বোরোধান খেত কালচে রং ধারণ করেছে। অনেক কৃষক অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সেচ ব্যবস্থা করলেও এখন পোকার আক্রমণে চিন্তায় পড়েছেন। ধান গাছ রক্ষার জন্য অনেকেই কীটনাশক দিচ্ছেন। যেসব জমিতে সেচ সংকটের পাশাপাশি পোকায় আক্রান্ত হচ্ছে, এসব জমির ধান গাছ নষ্ট হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কপালে কি হবে এ নিয়ে অনেক কৃষকের মাঝে হতাশা দেখা গেছে।
কমলগঞ্জের শমশেরনগর ইউনিয়নের কৃষক তরিকল ইসলাম বলেন, আমি অনেক কষ্ট করে ২ একর জমিতে বোরোধান চাষ করেছি। দূর থেকে সেচের ব্যবস্থা করেছি। এতে অতিরিক্ত টাকাও দিতে হয়েছে। গত একসপ্তাহ ধরে ধান খেতে মাজরা পোকা আক্রমণ করেছে। ইতোমধ্যে একবার ঔষধ দিয়েছি। এখন আবার দিতে হবে। এমনিতেই বীজতলা থেকে শুরু করে হালচাষ, চারা রোপণ ও সেচ খরচ আগের চেয়ে বেড়ে গেছে।
রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের শামিম আহমেদ বলেন, মাজরা পোকা ধান গাছের ডিগ পাতা কেটে দিচ্ছে। চলতি মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় ও আস্তে আস্তে গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর একটু বেশি পোকা আক্রমণ করেছে। একর প্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে যদি ধান না পাওয়া যায় তাহলে আমার মতো কৃষকেরা হতাশ হওয়া ছাড়া আর কিছু নেই।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, বোরোধানে পোকা আক্রমণ করেছে। এ নিয়ে চিন্তিত না হয়ে কৃষকেরা সঠিকভাবে ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে। আমাদের মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা আছেন, তাদেরকে বলে দেওয়া হয়েছে; কৃষকদেরকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য। যেসব ধান গাছের ডিগ পাতা কেটে দিচ্ছে পোকা এসব ধান গাছ আবার গজিয়ে উঠবে। এই জেলায় এবার আমন ধানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে আশা করি। বোরো ধানের ফলনও ভালো হবে, যদি কোন ধরনের পাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটে।
এম ইসলাম/এসএইচএ