অটোরিকশা-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম যুবক নিহত

অষ্টম শ্রেণি পাসের পর বাবার মৃত্যু। এরপর কখনো রাজমিস্ত্রির কাজ, কখনো দিনমজুরি- এভাবেই পরিবারের হাল ধরেছিলেন আমির (২০)। চাচাতো ভাইকে পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ডে এগিয়ে দিতে গিয়ে ফেরার পথে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় তার পরিবারে শোকের মাতম চলছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিরাজলা গ্রামের বিশ্বাস বাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হেতালিয়া বাধঘাট থেকে নিজে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসছিল আমির। পথিমধ্যে বিশ্বাস বাড়ি এলাকায় এসে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিককশার সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত আমির পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বোতলবুনিয়া গ্রামের মৃত সত্তার শিকদারের মেজো ছেলে ছিলেন।
নিহতের চাচাতো ভাই নজরুল বলেন, আমি পরীক্ষা দিতে বরিশাল যাব। তাই আমাকে আগাইয়া দিতে আসছিল আমির। হঠাৎ করেই ফোন পাই ও এক্সিডেন্ট করছে। ঘটনাস্থলে এসে দেখি আমির আর নাই। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মারা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ ইমন বলেন, ছেলেটা খুব ভালো ছিল। কখনো কারো সাথে এলাকায় বেয়াদবি করেনি, সদা হাসিখুশি থাকত। ঘটনাস্থলেই সংঘর্ষে ওর মাথার ঘিলু বের হয়ে গেছে। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। ঘটনার পর থেকে অটোচালক পালিয়েছেন, তাকে কোথাও খুঁজে পাইনি। এ ঘটনায় অটোতে থাকা আরও তিনজন আহত হয়েছেন, তবে ততটা গুরুতর নয়।
নিহতের মা হোসনে আরা বেগম জানান, বাবার মৃত্যুর পর থেকেই সংসারের হাল ধরেছিলেন আমির। চার সদস্যের পরিবারের একমাত্র অবলম্বন ছিল সে। ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, নিহতের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালে রয়েছে। পরিবার থানায় এসেছ, তবে লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/আরএআর