মহেশপুর সীমান্তে ভারতীয় নাগরিকসহ আটক ১১

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টাকালে সাতজন ভারতীয় নাগরিকসহ মোট ১১ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এদের মধ্যে দুইজন নারী ও ছয়জন শিশু রয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। এর আগে, বিকেলে মহেশপুর সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে মহেশপুরের বাঘাডাঙ্গা বিওপির হাবিলদার অনুপম বিশ্বাসের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টাকালে চার বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, খুলনার দাকোপ উপজেলার আন্ধারমানিক গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে হুমায়ুন কবির এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উত্তর আটুলিয়া হাওয়ালভাঙ্গী গ্রামের সিরাজুল গাজী (২৮)। বাকি দুজনের মধ্যে একজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে।
শুক্রবার সকালে মহেশপুরের শ্রীনাথপুর বিওপির নায়েব সুবেদার রমজান আলীর নেতৃত্বে পৃথক অভিযানে সাত ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়। আটককৃতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। তাদের মধ্যে একজন নারী ও পাঁচজন শিশু রয়েছে।
আটক ভারতীয় নাগরিকরা হলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা থানার টিলঢাঙ্গা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে মো. শাহাজান (৩৩) ও তার স্ত্রী তৈয়বা বেগম (৩০)। তাদের পাঁচ সন্তান—ইমরান (১২), ইফরান (১০), আয়ান (৮), জিদান (৬) ও সায়দা খাতুন (৪)।
বিজিবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহাজান জানান, তিনি তিন বছর বয়সে ভারতে যান এবং সেখানে প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করছেন। পরে তিনি ভারতীয় নাগরিক তৈয়বা বেগমকে বিয়ে করে ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করেন।
জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে রাজশাহী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন আটক সাত ভারতীয় নাগরিক। তারা গাইবান্ধায় ভাড়া বাসায় থেকে বিসিক এলাকায় কাজ করছিলেন। কাজ শেষে শুক্রবার মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ফেরার চেষ্টাকালে বিজিবির হাতে আটক হন।
মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান বলেন, আটককৃতদের মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আটক ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া, আটক চার বাংলাদেশির মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং আটক নারী ও শিশুদের যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার সেন্টারে পাঠানো হবে।
এএমকে