যশোরে নারী আসনে এমপি হতে চান অ্যাডভোকেট মুক্তি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। ৪৯ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে নতুন সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। এবার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নিয়ে দেশজুড়ে চলছে জোর আলোচনা। ইতোমধ্যে যশোরের প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এই এলাকা থেকে চার প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন অ্যাডভোকেট নার্গিস পারভীন মুক্তি। ইতোমধ্যে নিজের যোগ্যতা ও ভূমিকার কথা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তুলে ধরেছেন দলের দুঃসময়ের এই নেত্রী।
অ্যাডভোকেট মুক্তি যশোরের শার্শা উপজেলার শিয়ালঘোনা (গাতিপাড়া) গ্রামের আব্দুস সাত্তারের মেয়ে এবং যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের পুলেরহাট মন্ডলগাতি এলাকার শাহিনুর রহমান স্বপনের সহধর্মিণী। মাত্র ২০ বছর বয়সেই বিধবা হন এই সংগ্রামী নারী। প্রায় ২৬ বছর আগে স্বামীকে হারানোর বেদনা শক্তিতে রূপান্তর করে জাতীয়তাবাদী আদর্শে নিজেকে নিবেদন করেন। তার স্বামী শাহিনুর রহমান স্বপন ছিলেন সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহচর। এরশাদবিরোদী আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি এলাকায় এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে, ২০০০ সালে মৃত্যুর এতো বছর পরেও মানুষ তাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করে।
এক মেয়ের জননী নার্গিস পারভীন মুক্তি। একমাত্র কন্যা রাফিউন্নিছা স্বপ্ন বাবা-মায়ের পথ ধরেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়া। নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হন। এর আগে কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন অ্যাডভোকেট মুক্তি। আন্দোলনের সময় একাধিকবার তিনি পুলিশি নির্যাতন, লাঠিচার্জ ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হন। গুরুতর আহত হয়ে বারবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তারপরও কখনও রাজনীতি ও আন্দোলনের মাঠ ছাড়েননি তিনি। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন।
বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ঢাকা আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি সম্পাদক ও ঢাকা জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯–এর পিপি হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন। আইন পেশায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনীতিতেও তিনি নারী ও নির্যাতিত মানুষের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তাকে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল (ঢাকা জেলার) এর সদস্য করেছে।
এছাড়া তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, ঢাকা উত্তর জিয়া মঞ্চের আইন বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ল'ইয়ার্স ফ্রন্টের সদস্য, যাত্রাবাড়ী থানা মহিলা দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক। এর আগে তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, ঢাকা বার শাখার সাবেক সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির (২০১৩-২০১৪) নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
অ্যাডভোকেট নার্গিস পারভীন মুক্তি বলেন, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অর্জিত দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সংসদে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার—আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা—বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চাই।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, নারীর ক্ষমতায়ন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংসদে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। নির্বাচিত হলে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমি দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করব।
মনোনয়নের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী জানিয়ে অ্যাডভোকেট মুক্তি বলেন, দলের দুঃসময়ে কর্মকাণ্ডের কথা বিবেচনা করে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে বলে আমি আশাবাদী।
রেজওয়ান বাপ্পী/এসএইচএ