দত্তক নেওয়া সন্তানকে বাঁচাতে এক অটোচালক বাবার আকুতি

বিয়ের দীর্ঘ ১২টি বছর কেটেছে নিঃসন্তান অবস্থায়। অনেক ডাক্তার, কবিরাজ আর চিকিৎসার পেছনে ছুটেও যখন কোলে কোনো সন্তান আসেনি, তখন নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে ১৯ দিন বয়সের এক নবজাতক কন্যাকে দত্তক নেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার অটোচালক সঞ্জয় রায়। অভাবের সংসারে সেই শিশুটিই নিয়ে এসেছিল চাঁদের হাসি। কিন্তু সেই হাসি স্থায়ী হলো না বেশিদিন। জন্মের মাত্র কয়েক দিন পর থেকেই শুরু হয় জীবনের সঙ্গে এক অসম যুদ্ধ।
দত্তক নেওয়া সেই ছোট্ট শিশুটি বর্তমানে এক বিরল এবং মারণব্যাধি 'বিলিয়ারি এট্রেসিয়া' রোগে আক্রান্ত। শিশুটির লিভারের পিত্তনালীগুলো জন্মগতভাবেই ত্রুটিপূর্ণ, যা দ্রুত পচন ধরাচ্ছে তার ছোট্ট শরীরে। ডাক্তারদের মতে, শিশুটিকে বাঁচাতে হলে জন্মের ১০০ দিনের মধ্যে অপারেশন করা জরুরি। সময় ফুরিয়ে আসছে দ্রুত, হাতে আছে আর মাত্র অল্প কয়েক দিন।
পেশায় অটোচালক সঞ্জয় রায়ের সামর্থ্য নেই বললেই চলে। তবুও বুক ফেটে আসা কান্নার মাঝেও তিনি হাল ছাড়েননি। এরই মধ্যে বাচ্চার প্রাথমিক চিকিৎসা আর পরীক্ষার খরচ মেটাতে নিজের সহায়-সম্বল, জমানো টাকা এবং ভিটেমাটির যা ছিল সব শেষ করে ফেলেছেন তিনি। শিশুটিকে ভারতে নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৫ লাখ টাকা প্রয়োজন।
সঞ্জয় রায় ডুকরে কেঁদে বলেন, ১২ বছর পর বাচ্চার মুখ দেখেছিলাম। ও তো আমার নিজের কলিজার টুকরো। ও যে জন্ডিস আর ভাইরাস নিয়ে জন্মেছে তা বুঝিনি। এখন ডাক্তাররা বলছেন বিদেশে নিয়ে অপারেশন না করলে আমি ওকে হারাবো। আমার মতো গরিব মানুষের কাছে ৫ লাখ টাকা পাহাড়ের সমান। কিন্তু আমার মেয়েটার তো কোনো দোষ নেই।
অসহায় এই বাবা এখন সমাজের বিত্তবান এবং দয়াবান মানুষের দিকে তাকিয়ে আছেন। সবার সামান্য সহযোগিতাই পারে এই ফুটফুটে শিশুটিকে নতুন জীবন দিতে। সঞ্জয়ের ১২ বছরের অপেক্ষা যেন বিফলে না যায়, সেই লক্ষে এগিয়ে আসার জন্য মানবিক আবেদন জানানো হচ্ছে।
সাহায্য পাঠানো যাবে, সঞ্জয় রায়ের ব্যক্তিগত বিকাশ ও রকেট ০১৭৫১৪৬২৯৬৭ নম্বরে। এছাড়াও টাকা পাঠানো যাবে সঞ্জয়ের ডাচ বাংলা অ্যাকাউন্ট 2631580430356 নম্বরে।
এমএএস