বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দুই গ্রামপুলিশকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

জামালপুরের ইসলামপুরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামপুলিশসহ চারজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ওয়ার্ড বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
শনিবার (৭ মার্চ) বিকালে এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রামপুলিশ শ্রী জগেশ্বর রবিদাশ ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে উপজেলার কুলকান্দি পাইলিংপাড় এলাকায় হামলার ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।
ভুক্তোভোগীরা হলেন- উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ শ্রী জগেশ্বর রবিদাস , ৫নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ শ্রী রবিচান রবিদাস, জগেশ্বর রবিদাশের স্ত্রী লাকী রানী রবিদাস ও তার ছেলে নগেন বাবু।
অভিযুক্তরা হলেন- ইসলামপুর উপজেলার ১নম্বর কুলকান্দী ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাসেন আলী ও তার দুই ছেলে ইমান আলী, সুমন ও স্ত্রী রেহানা বেগম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাসেন আলী দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও জুয়া খেলায় আসক্ত। গ্রামপুলিশ জগেশ্বর রবিদাস তাকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য নিষেধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার রাতে হাসেন আলী লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জগেশ্বর রবিদাসের বাড়িতে গিয়ে তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার স্ত্রীকেও মারধর করা হয় এবং শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় আহত জগেশ্বর রবিদাস, রবিচান রবিদাস, লাকী রানী রবিদাস ও নগেন বাবু ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মোবাইল ফোনে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হাসেন আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তার সাথে তর্কাতর্কি হয়েছে। কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। একজনের সাথে তর্ক বেধে গেলেই যে থানায় অভিযোগ দেবে এটা কেমন। আপনার যা পারেন করেন। আমার ভাগিনা সাংবাদিক আছে, তার সাথে কথা বইলেন।”
কুলকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নূর ইসলাম বলেন, “যে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে, সে আমার বাবা হলেও আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমি কিছুক্ষণ আগে বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। যদি সমাধান না হয়, তাহলে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। প্রয়োজন পড়লে তাকে বহিষ্কার করা হবে।”
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ূম গাজী বলেন, আগামীকাল একজন অফিসার বিষয়টি তদন্তে যাবে। এরপর ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আমরা প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
হৃদয় আহম্মেদ/এসএইচএ