বড় ভাইকে কুপিয়ে জখমের পরদিন ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক মসজিদের ইমামকে কুপিয়ে জখমের পরদিন তার ছোট ভাইয়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত দুজনই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বাগাতিপাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের টুনিপাড়া মসজিদের ইমাম আবুল খায়েরের ওপর দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর জখম করে। পরদিন শনিবার (৭ মার্চ) রাতে তার ছোট ভাইয়ের ওপরও সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাগাতিপাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের টুনিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবুল খায়েরের ওপর দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার একদিন পর শনিবার (৭ মার্চ) রাতে আবুল খায়েরের ছোট ভাই ইয়াকুব আলীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আহত দুজনই পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে।
জানা যায়, সন্ধ্যার পর আহত ইমামের ছোট ভাই ইয়াকুব আলী পাশের গ্রামে তার চাচার বাড়িতে যাওয়ার পথে একা পেয়ে ৪-৫ জন হামলাকারী তাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি দৌড়ে পাশের মোজাম্মেল হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে গেলে হামলাকারীরা সেখানেও ঢুকে তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়াকুব আলীকে উদ্ধার করে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ইয়াকুব আলী জানান, হামলাকারীদের মধ্যে মিরাজ, তার ছেলে মেহেদী ও সাইফুলসহ কয়েকজন ছিল। এরাই আগের দিন তার বড় ভাই ইমাম আবুল খায়েরের ওপর হামলায় জড়িত ছিল।
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সজিবুর রহমান বলেন, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পৌরসভার টুনিপাড়া মহল্লার সাবেক কমিশনার মহসিন আলী বলেন, পরপর দুই দিনে একই পরিবারের দুই সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আশিকুর রহমান/এসএইচএ