৯ বছরের তুবার ঝুলন্ত মরদেহ ঘিরে ধোঁয়াশা, তদন্তে পুলিশ

বিকেলে মাঠ থেকে ছাগল নিয়ে এসে মা দেখেন তার ৯ বছরের মেয়ে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডা. মৃত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তখনও তাহিয়া তাজনীন তুবার হাতে কলমের কালি দিয়ে একটি আলপনা আঁকা ছিল। সামনের ঈদে কিভাবে নিজের হাত মেহেদি দিয়ে হাত রাঙাবে সেটারই প্রস্তুতি নিচ্ছিল শিশুটি।
তুবা উপজেলা সদর ইউনিয়নের বিক্রমশ্রী গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের মেয়ে ও স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণি পড়াশোনা করতো। পরিবারের দাবি ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছিল। তবে এখনো ঘটনার মূল কারণ ও হত্যাকারী কে বা কারা তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তুবা বিকেলের দিকে একা ঘরে ভাত খাচ্ছিল। তখন তার মা তমা বেগম (চিনি আক্তার) ছাগল আনতে মাঠে যায়। ঘণ্টাখানেক পর ছাগল নিয়ে বাড়িতে এসে দেখে মেয়ের মরদেহ তাদের ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। তখন তার মা দ্রুত মেয়েকে ঝোলানো অবস্থা থেকে নামিয়ে পানি দেয়। কিন্তুু অবস্থায় কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির মা চিনি আক্তারের দাবি, আমার মেয়ে বাড়িতে ভাত খাচ্ছিল। ঘরে কেউ ছিল না। এর মধ্যেই কি হয়ে গেল। আমি যখন আমার মাইয়াডারে ধরনা থাইক্কা নামাই তখন তার পাইজামা খোলা ছিল। আমার ছোট্ট শিশুটার সঙ্গে যে এই কাজ করেছে আমি তার কঠিন বিচার চাই।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক আরেক আত্মীয় বলেন, এখানে কিছু একটা ঝামেলা রয়েছে। কিছুদিন আগে এই বাড়ির পাশে একটি ছেলে ছিল, যার সঙ্গে এই মেয়েটির সম্পর্ক ছিল। ছেলেটি এখানে থেকে পড়াশোনা করত। পরবর্তীতে এই সম্পর্কের জের ধরে ওই ছেলেকে মারধর করে এখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। তবে এখানে আমার মনে হয়, প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের কিছু ঝামেলা আছে, জমিজমা সংক্রান্ত। এটা নিয়েও ঝামেলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঠিক কি কারণে এ ঘটনা ঘটেছে এটা পুলিশ ভালো বলতে পারবে।
ঘটনার সুরতহাল রিপোর্ট হাতে এসেছে ঢাকা পোস্টের। সেখানে উল্লেখ আছে, ঘাড়ে একটি সামান্য আঁচড়ের দাঁগ ছাড়া শরীরের কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। যৌনাঙ্গে ক্ষত রয়েছে তবে বীর্য পাওয়া যায়নি।
নেত্রকোণা সদর হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ড. মো. মাজহারুল আমীন ঢাকা পোস্টকে বলেন, শিশুটির ময়নাতদন্তের কাজ শেষ হয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে এতটুক নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে তার যৌনাঙ্গে ইনজুরি রয়েছে। তবে সেটি ধর্ষণের কারণে কি না সেটি নিশ্চিত না। কারণ আমরা কোনো বীর্যের অস্তিত্ব প্রাথমিকভাবে পাইনি। সেক্ষেত্রে এটি ধর্ষণ নাকি অন্য কোনো ভাবে আঘাত করা হয়েছে সেটি আরও যাচাই-বাছাই ও অধিকতর পরীক্ষা শেষে বলা যাবে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সুপারসহ আমাদের সকল ইউনিট পুরোদমে কাজ করছে। আমরা এখনো ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন করতে পারেনি। তবে সম্ভাব্য সব বিষয় আমরা নজরদারিতে রেখেছি। খুব শীঘ্রই আমরা হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদঘাটন করতে সক্ষম হব।
চয়ন দেবনাথ/আরকে