সৈয়দপুরে নিজের খেয়াল খুশি মতো অফিসে আসেন কর্মকর্তারা

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা না মেনে নিজের খেয়াল খুশি মতো অফিসে আসার অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্ধারিত সময়ে সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ও রোববার (৮ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে অফিস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক দপ্তরে সময়মতো কর্মকর্তাদের উপস্থিতি দেখা যায় না। সময় হলেও দীর্ঘ সময় কর্মকর্তাদের কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা যায়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে আসার কথা থাকলেও তিনি অবস্থান করছেন রংপুরে। বাকি কয়েকজন কর্মচারী এসে অফিসে মোছামুছির কাজ করছেন। অপরদিকে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কক্ষের তালাও খোলা হয়েছে দেরিতে। সেখানে বাকি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যেও কেউ সময় মতো উপস্থিত ছিলেন না। মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসনের বাকিসব দপ্তরে একই চিত্র দেখা যায়।
আরও দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারী না আসলেও অনেক কক্ষ ফ্যান ও বৈদ্যুতিক বাতি চালু রাখা ছিল। এ সময় কয়েকজন সেবাগ্রহিতাকে বাইরে অপেক্ষা করতেও দেখা গেছে।
সেবা নিতে আসা ইমরান হোসেন বলেন, আমি জানি অফিস শুরু হয় ৯টার দিকে এজন্য সময়ের একটু আগে এসেছি। এখানে এসে দীর্ঘ সময় ধরে বাইরে দাঁড়িয়ে আছি তবুও কক্ষের তালা খোলেনি।
আরেক সেবাগ্রহিতা কাওসার চৌধুরী বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসলেও সেবা পাই না। সঠিক সময়ে এসেছি, এখানো অফিসার আসেনি এজন্য সেবা পাচ্ছি না।
বৃদ্ধা মমতা বেগম বলেন, আমার বয়স্ক ভাতার নম্বরের সমস্যা হয়েছে এজন্য সকালে এসেছি। সকালে এসে বাইরে বসে আছি। ১০টা বাজে কোনো অফিসার আসেনি।
৯টা ৪০ মিনিটের দিকে অফিসে পৌঁছান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল আলম। তারে কাছে দেরির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সাংবাদিকের কাছে জবাবদিহিতা করব না। আমি কেন দেরিতে এসেছি কখন আসব, বা আসব না সেটা আমার ব্যাপার। আমি দেরিতে এসেছি সেটা লিখে দিয়েন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম প্রামানিক বলেন, আমি ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে রংপুর এসেছি। তাছাড়া নিয়মিত যাওয়ার চেষ্টা করি সবসময় আজকে সমস্যার কারণে যেতে পারিনি।
উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ইকবাল মোস্তাকিন মো. রফিকুল্লাহ বলেন, গাড়িতে জ্যাম থাকার কারণে পৌঁছাতে সময় লাগছে। আমি সবসময় নিয়ম মানার চেষ্টা করি।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে অবশ্যই অফিসার কর্মচারীদের আসতে হবে। উপজেলার প্রত্যেকটি দপ্তরে সেটি জানানো হয়েছে। কেউ যদি সেটা অমান্য করে তাহলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শাজাহান ইসলাম লেলিন/আরকে