তেল পাম্পে বৈষম্যবিরোধী নেতা নিহতের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩

ঝিনাইদহে তেল পাম্পে কর্মচারীদের পিটুনিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নিরব হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) রাতে নিহতের বাবা বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় আটক ৩ জনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। নিহত নিরব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাহদহ জেলার সাবেক আহ্বায়ক কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের বারইখালী গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে, আড়ুয়াকান্দি গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে রবিজুল ইসলাম ও সুরাট ইউনিয়নের কাস্টসাগরা গ্রামের সাফিয়ার রহমানের ছেলে দাউদ হোসেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুল আরেফীন বলেন, শনিবার রাতেই নিহতের বাবা আলিমুর বিশ্বাস বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য শনিবার রাতে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে বোতলে তেল কিনতে যান কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের যুবক নিরব হোসেন। এ সময় পাম্পের কর্মচারীরা তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। যুবক নিরব হোসেন কিছুক্ষণ পরে আবারও তাজ ফিলিং স্টেশনে যান। এ সময় অন্য এক ব্যক্তিকে বোতলে তেল দিতে দেখে প্রতিবাদ করেন ওই যুবক। এরপর পাম্পের কর্মচারীরা লাঠি দিয়ে নিরবকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নিরব ঝিনাইদহ শহরের সরকারি বালক বিদ্যালয়ের পাশে ফাস্টফুডের ব্যবসা করত।
এ ঘটনার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা আরাপপুরে একটি ফিলিং স্টেশন ভাঙচুর ও রাতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ৩টি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। অপরদিকে বাসে আগুন দেওয়ার প্রতিবাদ রোববার সকালে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। এতে বন্ধ হয়ে যায় ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের সব প্রকার যান চলাচল। সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ যাত্রীরা। পরে বাসে আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাসে ২ ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে দেন শ্রমিকরা।
আরকে