মন্দা ভাব কাটিয়ে বাবুরহাটে বেচাকেনার ধুম

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে জমে উঠেছে দেশের বৃহত্তর পাইকারী কাপড়ের হাট নরসিংদীর বাবুরহাট। কয়েক বছরের মন্দা ভাব কাটিয়ে বেচাকেনার ধুম লেগেছে এই হাটে। বিগত কয়েক বছরের চেয়ে এবার বেচাকেনা বেশি হচ্ছে।
জানা যায়, দেশের অন্যতম পাইকারি দেশীয় কাপড়ের বাজার প্রাচ্যের ম্যানচেষ্টার খ্যাত নরসিংদীর শেখেরচরের বাবুরহাট। শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি-পিস, শার্ট পিস, প্যান্ট পিস, পাঞ্জাবির কাপড়, থান কাপড়, পপলিন কাপড়, ভয়েল কাপড়, সুতি কাপড়, শাটিং কাপড়, বিছানার চাদর, পর্দার কাপড় থেকে শুরু করে গামছা উৎপন্ন হয় স্থানীয় তাঁত ও সহায়ক শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে। একই সঙ্গে দেশের প্রসিদ্ধ টাঙ্গাইলের শাড়ি, জামদানি, কাতানসহ বিভিন্ন প্রকারের কাপড়ের সম্ভারে বাবুরহাটের সংগ্রহকে করেছে সমৃদ্ধ।
এবার ঈদ উপলক্ষ্যে নতুন ডিজাইনের কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। বাবুরহাটের ব্যস্ততা নতুন নয়, সারা বছরেরই চিরচেনা চিত্র। তবে ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে বাবুরহাটের বাবুদের বাবুগিরি। ঈদের কাপড় কিনতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা ভিড় জমিয়েছে বাবুরহাটে। হাটের প্রতিটি অলি-গলি ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারনায় মুখর। এই হাট ঘিরে নরসিংদী জেলাসহ নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে গড়ে উঠেছে কয়েক লাখ তাঁতকল। একই সঙ্গে কয়েকশ সহায়ক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এবার কাপড়ের দাম নাগালের মধ্যেই রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। খুচরা পর্যায়ে বেচাকেনা বৃদ্ধি পেলে আগামী আরও দুই হাটে বিক্রির আশা ব্যবসায়ীদের।
বাবুরহাটে দেশীয় কাপড়ের পাইকারী দোকানের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। সপ্তাহে বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার তিনদিন বেচাকেনা হয় এই বাজারটিতে। বণিক সমিতি জানায়, দেশীয় কাপড়ের প্রায় ৭০ ভাগ পূরণ হয় এই হাট থেকে। এই হাটের সাথে ছোট বড় দোকান মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভর করে।
বাদ্রার্স প্রিন্ট শাড়ির স্বত্বাধিকারী শামীম মোল্লা বলেন, দীর্ঘ দিনের মন্দা কাটিয়ে এ বছর বাবুর হাটে বেচাকেনার ধুম লেগেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এই বছরের বেচাকেনা ভালো হয়েছে। রোজার প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহেও আশানুরুপ বেচাকেনা হয়েছে। আশা রাখছি বাকি সময়গুলোতে আরও ভালো মুনাফা ও বেচাকেনা হবে।
আলিকা প্রিন্ট শাড়ির স্বত্বাধিকারী সুলতান উদ্দিন সরকার বলেন, এ বছর শাড়ি থ্রি-পিসের হরেক রকম কালেকশন এসেছে। দামও হাতের নাগালে। পাইকাররা স্বাচ্ছন্দে কাপড় কিনছেন। আশা রাখছি এবারের ঈদে ভালো মুনাফা হবে।

কাজল ক্লথ স্টোরের মালিক কাজল সাহা বলেন, এ বছর ইন্ডিয়ান কাপড়ের চেয়ে আমাদের দেশের কাপড়েরর চাহিদা বেশি।
দোকানের কর্মচারী রফিক বলেন, বেচাকেনায় ব্যস্ত সময় পার করছি। এবারের ঈদে বাহারি রকমের কালেকশন করা হয়েছে। ক্রেতারা তা খুব পছন্দ করছে, বিক্রি ও বেশি হয়েছে।
অন্যদিকে মানে ভালো আর দামে কমের সুবিধা নিতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন ব্যবসায়ীরা। রোজার আগে থেকেই পাইকারী বিক্রি শুরু হলেও খুচরা বিক্রি এখনো শুরু হয়নি। তবে বিগত বছরের চেয়ে এ বছর আশানুরুপ বিক্রির প্রত্যাশা তাদের। এই বাজারে যাতায়াত থেকে শুরু করে টাকা-পয়সার নিরাপত্তা বিশেষ আকর্ষণ তাদের।
আমানত শাহ গ্রুপের পরিচালক রেজওয়ান কবির শিহাব বলেন, এবারের ঈদে ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকায় নতুন নতুন ডিজাইনের লুঙ্গি বাজারে এনেছে আমানত শাহ গ্রুপ। যা সারাদেশেই পছন্দের তালিকায় রয়েছে। এবারের ঈদে বেচাকেনা ভালোই হয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতা নরসিংদীর শেখেরচর-বাবুরহাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, নিয়মিত হাটের চেয়ে রমজানে বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ক্রেতার সাড়া পাওয়ায় বিগত সময়ের ক্ষতি এ বছর পুষিয়ে নেবেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় ৬৪টি সিসি ক্যামেরা বসানোসহ প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এবারের প্রতি হাটে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। ফলে ঈদ মৌসুমে হাটে দুই থেকে আড়াই হাজার (২৫০০) কোটি টাকার লেনদেন হবে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ী নেতাদের।
আরএআর