‘উন্নত চিন্তা-চেতনার ঘাটতি থাকায় নারীরা যথাযথ সম্মান পাচ্ছেন না’

উন্নত চিন্তা-চেতনার ঘাটতি থাকার কারণে এখনো সমাজে নারীরা যথাযথ সম্মান পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মো. এনামুল আহসান।
তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা এখনো প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হচ্ছেন। এসব নারীদের সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার প্রতিটি জেলায় লিগ্যাল এইড সেবা চালু করেছে। যেখানে নির্যাতিত নারীরা বিনামূ্ল্যে আইনি সেবা পেয়ে থাকেন। প্রান্তিক অঞ্চলেও এই সেবা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’- এই প্রতিপাদ্যে এ বছর দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে রংপুর জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় যৌথভাবে আলোচনা সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারীকে পিছিয়ে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তারা সমাজের সকল স্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি আরো বলেন, শুধু নারী-পুরুষের সমতা আনলেই হবে না, অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিতে সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
নারীদের সমাজিক অবক্ষয় রোধে পারিবারিক শিক্ষার মাধ্যমে নারীদের সম্মান দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, উন্নত চিন্তা-চেতনার ঘাটতি থাকার কারণে এখনো সমাজে নারীরা যথাযথ সম্মান পাচ্ছেন না।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা এখনো প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হচ্ছেন।
এনামুল আহসান বলেন, নির্যাতিত নারীদের সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার প্রতিটি জেলায় লিগ্যাল এইড সেবা চালু করেছে। যেখানে নির্যাতিত নারীরা বিনামূ্ল্যে আইনি সেবা পেয়ে থাকেন। প্রান্তিক অঞ্চলেও এই সেবা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দেশ এখন উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের এই অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীরা সহযাত্রী হিসাবে যুক্ত হবেন। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ করতে নারী ও কন্যাশিশুদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ নিশ্চিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রমিজ আলমের সভাপতি অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জয়নাল আবেদীন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. সেলোয়ারা বেগম বক্তব্য দেন।
সভা শেষে জুলাই যুদ্ধাহত পরিবারের সদ্যসদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর আগে সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় বিভিন্ন নারী বিষয়ক সংগঠনের প্রতিনিধি ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/আরএআর